বাংলাদেশের ডায়েরি : পর্ব ৪ :জাফলং
বাংলাদেশের ডায়েরি : পর্ব ৪ :জাফলং
২৫.০৭.২০২৩ : ২০১৬ সালে যখন মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি গিয়েছিলাম, তখন দূর থেকে সিলেটের কৃষিপ্রান্তর দেখেছিলাম I এছাড়াও মেঘালয়ের ডাউকি গেলেও বাংলাদেশের জাফলং দেখা যায় I এই জাফলং সিলেট শহর ৫৫ কিমি দূরত্বে অবস্থিত, সময় লাগে দেড় ঘন্টা I আর মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে ডাউকি ৭৫ কিমি দূরত্বে অবস্থিত I
সিলেটকে সবাই যেমন চায়ের দেশ হিসেবে চেনে, তেমনি চেনে 'জলকন্যা জাফলং' এর দেশ হিসেবেও। উমগট (Umngot) নদী / ডাউকি নদী বাংলাদেশে ঢুকে পিয়াইন নদী নাম নিয়েছে I উমগট /ডাউকি / পিয়াইন নদী ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে পরিষ্কার নদী I এই নদীর জল স্বচ্ছ কাঁচের মতো I জলের নিচে পাথর গুলো পরিষ্কার দেখা যায় I উমগট/পিয়াইন নদীর উপর ১৯৩২ সালে নির্মিত সাসপেনশন বা ঝুলন্ত ব্রিজ যেটা ডাউকি ব্রিজ নামে পরিচিত সেটা এই স্থানের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু I এই নদীর তীরে পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে অতুলনীয়।
আমরা যেদিন জাফলং গেলাম, সেদিন প্রচন্ড রোদ্দুর ছিল I গরমে ঘেমে যা তা অবস্থা, কিন্তু পিয়াইন নদীর ধারে গিয়ে মন ভরে গেল I স্বচ্ছ শীতল জলে পা ডুবিয়ে দেহ মন প্রশান্ত হয়ে গেল I অনতিদূরে ডাউকি ব্রিজকে পেছনে রেখে যথেচ্ছ ছবি তুললাম I ভারতীয় পর্যটকরাও ছোট ছোট বোটে করে আসতে লাগলো I ব্রিজের সামনে যে নৌকা গুলো দেখা যাচ্ছে, সেইগুলি সবই ভারতের, পাহাড়গুলিও ভারতের I জাফলং এ ভারত-বাংলাদেশ যেন এক হয়ে গেছে I BSF এবং BGB উভয়েই দু দেশের পর্যটকদের নিজ নিজ কাল্পনিক সীমারেখার মধ্যে থাকার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে, অদ্ভূত জায়গা কোনটা বাংলাদেশ কোনটা ইন্ডিয়া ঠিক করা কঠিন! এক পা বাংলাদেশে রেখে অন্য পা ভারতে রাখা যায়!দূরদুরান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন এই নয়নাভিরাম সুন্দরের কাছে। জাফলং ভ্রমণের কথা বলতে গিয়ে জাফলং টুরিস্ট পুলিশের
Tourist Police, Jaflong Sub-Zone ট্যুরিস্ট পুলিশ, জাফ্লং সাব-জোনকথা আলাদা করে বলতেই হবে I তাঁরা পর্যটকদের নিরন্তর সহযোগিতা করে চলছেন I তাঁদের সদা সতর্ক দৃষ্টির জন্য জায়গাটা হয়ে উঠেছে সুরক্ষিত I আমরা গরমে ক্লান্ত হয়ে সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে ওঠার সময় জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশ ইন্সপেক্টর (শহর ও যানবাহন শাখা) মো শাহাদাত হোসেন সাহেব আমাদেরকে তাঁর অস্থায়ী অফিসে এনে চেয়ারের ব্যবস্থা এবং ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, এবং আমার ভাগ্নের হাঁটুর সমস্যার জন্য সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হচ্ছিলো বলে তিনি আরেক পুলিশ অফিসার নাজমুল সাহেবকে দিয়ে সমতলে উঠিয়ে দিলেন I জাফলং টুরিস্ট পুলিশের এই মানবিক দিক আমাকে মুগ্ধ করেছে I জাফলং জিরো পয়েন্ট ঘুরে আমরা গেলাম ৫ কিমি দূরে ভারত-বাংলাদেশ স্থলবন্দর (ডাউকি-তামাবিল) I নো ম্যানস ল্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছবি তুললাম I মানুষজন এই বর্ডার দিয়ে খুবই কম যায়, ট্রেড রুট হিসেবেই এটা বেশী ব্যবহৃত হয় I সব শেষে গেলাম শ্রীপুর চা বাগান I মেঘালয়ের পাহাড়ের কোলে এই চা বাগান I ছবি তোলার জন্য উপযুক্ত I জাফলং থেকে ডাউকির বাড়ী ঘর গুলো পরিষ্কার দেখা যায়, এমনকি ইন্ডিয়ার মোবাইল নেটওয়ার্ক খুব সুন্দর কাজ করে I সিলেট থেকে জাফলং যাওয়ার রাস্তা খুবই সিনিক I জাফলং ঢোকার ১৫ কিমি আগে থেকেই মেঘালয়ের পাহাড়গুলো দৃশ্যমান হতে থাকবে, যত কাছে যাওয়া হবে তত পরিষ্কার I সারাদিন রোদে ঘুরে ক্লান্ত শরীরে আর কোনো জায়গা ঘোরার এনার্জি ছিল না, সিলেট শহরে প্রবেশ করে বিখ্যাত হোটেল পানসি তে ঢুকলাম I চা ছাড়া কোনো খাবার আমার ভালো লাগে নি, স্বাদ করোক, ৫ রকম ভর্তা সবই কেমন যেন! দাম বেশী খেতে অতো ভালো নয় I স্রেফ নামে চলছে I হোটেলে ফিরতে রাত হয়ে গেল I পরের দিনের গন্তব্য ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর I (চলবে)









No comments