বাংলাদেশের ডায়েরি : পর্ব ৫ : ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর
বাংলাদেশের ডায়েরি : পর্ব ৫ : ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর
২৬.০৭.২০২৩ :ভোলাগঞ্জ সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। সিলেট শহর থেকে মাত্র ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত, সময় লাগবে ১ ঘন্টা I প্রকৃতির মায়ায় মোড়ানো ভোলাগঞ্জ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পাথর কোয়ারির অঞ্চল। ভোলাগঞ্জ সীমান্তে প্রাকৃতিক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের উঁচু উঁচু পাহাড়। সেই পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণাধারা একদিকে ধলাই নদীর জলের যোগানদাতা অন্যদিকে এই জল প্রবাহই ভোলাগঞ্জের রূপের উৎস। সবুজ পাহাড়, মেঘের হাতছানি আর বর্ষার পাহাড়ি ঢলের সাথে নেমে আসা সাদা পাথর ধলাই নদের বুকে মিলে মিশে ভোলাগঞ্জের সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সৌন্দর্য উপভোগ করবার জন্যই আমাদের আনন্দযাত্রা Iভারত থেকে নেমে আসা সীমান্ত নদী ধলাই নদীর জিরো পয়েন্ট এলাকা স্থানীয়ভাবে ‘সাদা পাথর’ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই স্পটটি এখন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকাটি দেখতে প্রতিদিনই পর্যটকরা সেখানে ভিড় করেন।
জানা যায়, ভারতের চেরাপুঞ্জির খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড় থেকে নেমে আসা ধলাই নদীর জলের সঙ্গে প্রতিবছর বর্ষাকালে নেমে আসে প্রচুর পাথর। ধলাই নদীর তলদেশেও রয়েছে পাথরের বিপুল মজুদ। পাথর উত্তলোনের কাজ সহজ করতে ১৯৬৪-১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে রোপওয়ে টাওয়ারগুলো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে I
ভোলাগঞ্জ দেখতে যাওয়ার পথে পড়বে সিলেটের সর্ববৃহৎ চা বাগান মালনীছড়া চা বাগান I রাস্তার দুই ধারে উঁচু উঁচু টিলার উপর চা বাগান দেখতে দেখতে দূরের মেঘালয় পাহাড়ের হাতছানি পাওয়া যাবে, যত কাছে যাওয়া যাবে পাহাড় যেন কাছে চলে আসে I ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর যেতে গেলে ৮০০ টাকা দিয়ে বোট ভাড়া করতে হয়, ৮ জন যাত্রী বহন করে এই নৌকা I মিনিট ২০ জল যাত্রা করে, ঐ নৌকা আপনাকে পৌঁছে দেবে ভোলাগঞ্জের জিরো পয়েন্টে, যেখানে সাদা পাথরের মেলা দেখা যায়! আবার ঐ নৌকাই আপনাকে ফিরতি পথে নিয়ে যাবে I মিনিট ৭ হেঁটে আমরা পৌছালাম ঢলাই নদীর তীরে, ১০০ টাকা দিয়ে একটা ছাতা বুক করলাম I ধলাই নদীর জলও স্বচ্ছ কাঁচের মতো, নীচে পাথর দেখা যাচ্ছে I সকলের মতো আমরাও নদীর মধ্যে শুয়ে পড়লাম I হীমশীতল জল যেন দেহ মন জুড়িয়ে দিল I ঘন্টা দুয়েক এইভাবে চান করার পরও মনে হচ্ছে আরো কিছুক্ষন থাকি I আমার ভোলাগঞ্জ খুবই ভালো লেগেছে, সিলেটে এসে ভোলাগঞ্জ না দেখলে সিলেট ভ্রমণ অপূর্ণ থেকে যাবে I ভোলাগঞ্জ দেখে আবার সিলেটের হোটেলে ফিরে এলাম I আগামীকাল শেষ দিন I সিলেটের দুই বিখ্যাত বিখ্যাত ব্যাক্তির মাজার দর্শন করবো I হজরত শাহ জালালের মাজার, হজরত শাহ পরানের মাজার I ( চলবে )

















No comments