বাংলাদেশের ডায়েরি : পর্ব ৬ :হজরত শাহজালালের (রাহ:) মাজার ও হযরত শাহ পরাণের মাজার (রাঃ)
বাংলাদেশের ডায়েরি : পর্ব ৬ :হজরত শাহজালালের (রাহ:) মাজার ও হযরত শাহ পরাণের মাজার (রাঃ)
২৭.০৭.২০২৩ :আজ মনটা ভারাক্রান্ত, সিলেট শহর টা এই তিন দিনে খুবই ভালো লেগেছে, সেটাকে ছেড়ে যেতে হবে বলে I আজ আমরা প্রথম গেলাম হজরত শাহজালালের (রাহ:) মাজার পরিদর্শনে I আমাদের হোটেল থেকে ৩ কিমি দূরত্বে অবস্থিত I ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত সুফি ও দরবেশ হযরত শেখ শাহজালাল মুজার্রাদ ইয়ামনী (রাহ:)। উনার পুরো নাম শেখ শাহ জালাল, কুনিয়াত মুজাররাদ। ৭০৩ হিজরী মোতাবেক ১৩০৩ খ্রিষ্টীয় সালে ৩২ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে অধুনা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে সিলেটেই কবর দেওয়া হয় I মাজারটা একটা বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে, পাশে মসজিদ, এবং ডান দিকে একটা পুস্করিনী আছে, যেখানে বড়ো বড়ো মাছ আছে I
তারপর গেলাম সিলেট শহর থেকে ৭ কিমি দূরত্বে অবস্থিত শাহ পরানের মাজারে I হযরত শাহ পরাণ (রাঃ) ছিলেন হযরত শাহ জালাল (রাঃ) এর ভাগ্নে। তিনিও ছিলেন একজন সাধক পুরুষ।সিলেট শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার খাদিম নগরে খানকাহ স্থাপন করে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনা শুরু করেন। বড় একটি টিলার উপর একটি প্রকাণ্ড বৃক্ষের নিচে রয়েছে শাহ পরাণ (রাঃ) এর কবর। মাজার টিলায় উঠা নামার জন্য উক্ত মাজার প্রাঙ্গনে উত্তর ও দক্ষিণ হয়ে সিঁড়ি আছে। যা প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট উঁচু দেখায়। এই সিঁড়িটি মোগল আমলে নির্মিত বলে লোক মুখে শোনা যায়। মাজারের পশ্চিম দিকে মোগল বাদশাদের স্থাপত্বকীর্তিতে নির্মিত তিনটি গুম্বজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ রয়েছে।এই মসজিদে প্রায় ৫ শত মুসল্লী এক সাথে নামাজ আদায় করে থাকেন। মাজার টিলা থেকে প্রায় ১৫/২০ ফুট দহ্মিণ পশ্চিমে মহিলা পর্যটকদের জন্য এক ছালা বিশিষ্ট দালান ঘর রয়েছে। উক্ত দালানের অল্প পরিসর দক্ষিণ পুর্বে আরেকটি ঘর দেখতে পাওয়া যায়। এ ঘরখানা মুলত বিদেশাগত পর্যটকদের বিশ্রামাগার হিসেবে ব্যবহার হয়। এই ঘরের পাশেই একটি পুকুর রয়েছে, যা অজু গোসলের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে।প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের পদচারণায় মুখরিত থাকে পুরো মাজার এলাকা। সিলেট অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠায় শাহ পরান (রাঃ) এর ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সিলেটের নবীগঞ্জ, হবীগঞ্জ সহ বিভিন্ন স্থানে ইসলাম প্রচার করেন।
এবার গাড়ী চলা শুরু ঢাকার উদ্দেশ্যে I গাড়ীর চালক রাস্তা ভুল করে মৌলভীবাজার - শ্রীমঙ্গলের রুট ধরেছিলো I শ্রীমঙ্গল যাওয়াটা অনেকটা বোনাস পাওয়ার মতো হয়ে গেল I তবে শ্রীমঙ্গল পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত ৮ টা বেজে গেল I শ্রীমঙ্গলের চা বিখ্যাত I শ্রীমঙ্গল কে বাংলাদেশের 'টী ক্যাপিটাল' বা চায়ের রাজধানী বলা হয় I ওখানে থেকে চা কিনলাম I শ্রীমঙ্গলের CTC লিকারের রং টা খুব সুন্দর I বাড়ীতে এনে দেখেছি সত্যিই চা র রং অতি চমৎকার Iরাতে যাত্রা করছিলাম বলে শ্রীমঙ্গলের রাস্তার দুইধারে চা বাগানের ছবি নিতে পারিনি I তবে আঁকা বাঁকা পথের দুই ধারে টিলার উপর চা বাগান কেরলের মুন্নারের কথা মনে করে দিচ্ছিলো I প্রথমে ব্রাহ্মণবেড়িয়া, তারপর নরসিংদী পড়লো রাস্তায় I ওখানেই ডিনার করে ঢাকা ফিরতে রাত ১ টা বেজে গেল I
২৮.০৭.২০২৩ : সিলেট থেকে ঢাকা ফিরতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিলো, তবে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ছিলাম I কারণ পরেরদিন বিকেল ৫:১৫ য় ঢাকার শাহজালাল এয়ারপোর্ট থেকে ফ্লাইট I এবারে বাংলাদেশ যাত্রা টা স্থলবন্দর দিয়ে করবো বলেই মনস্থ করেছিলাম I কিন্তু পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থল বন্দরে এতো হয়রানিতে পড়েছিলাম যে স্থল বন্দর দিয়ে আর ফেরার সাহস রাখতে পারিনি I যশোরে ঢুকেই রিটার্ন টিকিট কেটে রেখেছিলাম I শুনলে অবাক হবেন হজরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (পূর্বে জিয়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট), ঢাকায় ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস ক্লিয়ার করতে মাত্র ১০ মিনিট লাগলো I এছাড়াও ফেরার ফ্লাইট টিকিটে ট্রাভেল ট্যাক্সের টাকা ধরা থাকে বলে আলাদা করে দেওয়া লাগে না I বাংলাদেশ সরকার এই মাস থেকে ট্রাভেল ট্যাক্স বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করেছেন প্রতি পাসপোর্ট I সঠিক টাইমে ইউএস বাংলার এটিআর ফ্লাইট ছাড়লো I ভারতীয় টাইম সন্ধ্যা ৬ টায় কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এয়ারপোর্টে অবতরণ করলো I খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দারুন একটা সময় কাটালাম I (সমাপ্ত)
























No comments