মণিপুর ভ্রমণ ( দ্বিতীয় পর্ব ) / মায়ানমার
![]() |
মণিপুর ভ্রমণ ( দ্বিতীয় পর্ব ) / মায়ানমার
মণিপুর ভ্রমণের দ্বিতীয় দিনে ছিল বিনা ভিসা, বিনা পাসপোর্টে অথচ বৈধভাবে একটি নতুন দেশে পদার্পন করা ! হ্যাঁ ঠিক পড়ছেন ভারত-মায়ানমার সীমান্তে মোরে (ভারত ) ও টামু (মায়ানমার ) যাবো I গত দিন ফ্লাইট দেরী করায় দুই ঘন্টা আমরা লেট রান করছিলাম I যথারীতি আমরা তাড়াতাড়ি ব্রেকফাস্ট করে নিলাম , কিন্তু হোমস্টের মালিক অশোক সাপামচা দেরী করে আসায় আরো 2 ঘন্টা লেট হয়ে গেলো I ইম্ফল বা মৈরাং থেকে মোরের দূরত্ব 110 কিমি, ঘন্টা চারেকের রাস্তা I পথিমধ্যে কাকচিং বলে একটা জায়গায় মধ্যাহ্নভোজন সমাপন হলো I এর পর পাহাড়ী রাস্তা চলা শুরু হলো I মণিপুরে যে এত বড়ো বড়ো পাহাড় আছে আমার ধারণা ছিল নাI রাস্তায় চলার সময় আর যেকোনো চার পাঁচটা হিল স্টেশনে যেরকম আবহাওয়া, পরিবেশ থাকে হুবহু সেই রকম Iপাহাড়ের ওপর থেকে সাদা মেঘ নামতে থাকলো, ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে থাকলো, তারপর তুমুল বৃষ্টি নামলো যা মোরে পৌঁছানোর পরও চলতে লাগলো I এর মধ্যে দুই -তিনবার চেকপোস্টে আসাম রাইফেলস আমাদের গাড়ী দাড় করালো, সীমান্ত শহর বলে এত কড়াকড়ি I শেষপর্যন্ত মোরে যখন পৌছালাম সাড়ে তিনটে বেজে গিয়েছিলো, সঙ্গে তুমুল বৃষ্টি I সাইটসিনের ইতি ওখানেই I আমরা মোরেতে হোটেল লুক ইস্ট বুক আগে থেকেই করে রেখেছিলাম যা ইন্দো -মায়ানমার ফ্রেন্ডশিপ গেট থেকে 100 মিটার দূরত্বে ছিল I মণিপুরের টেংনৌপাল জেলায় মোরে শহরটি অবস্থিত ৷ এই শহরটিকে ইতিমধ্যে মণিপুরের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের গেটওয়ে হিসাবে দেখা হয়। শহরের অন্যদিকে মায়ানমারের টামু৷ মোরে শহরটি আকারে খুব একটা বড়ো নয়, খাদ্যদ্রব্যের দাম খুব বেশী, সন্ধ্যে 6 টার পর সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, লোকজন রাস্তায় খুব একটা দেখা যায় না I যায় হোক যে উদ্দেশ্যে মোরে আসা সেটা সেই দিন সম্ভব হলো না I সকাল 7 থেকে বিকাল 4 টা পর্যন্ত ইন্দো-মায়ানমার ফ্রেন্ডশিপ গেট খুলে যায়, যেকোনো ভারতীয় আঁধার কার্ড বা ভোটার কার্ড জমা রেখে ঘুরে আসতে পারে মায়ানমারের টামু শহরটিতেI পরের দিন যেন বৃষ্টি না হয়, সেই আশা নিয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম I পুবের দেশ বলে ভোর 5 টাতেই সকাল হয়ে গেলো I সকাল 7 টা বাজতেই আঁধার কার্ড জমা দিলাম মায়ানমার চেক পোস্টে, ওরা একটা রিসিট দিলো, এটা আবার ফেরার সময় জমা দিলে ওরা আঁধার কার্ড ফেরৎ দিয়ে দেবে I
মায়ানমার চেকপোস্ট থেকেই বিখ্যাত নামফালং মার্কেট শুরু I আমরা প্রথমে রিসার্ভ বড়ো অটো নিলাম টামু শহর টিকে দেখার জন্য যার ভাড়া 500 টাকা, প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মায়ানমারের টামু পর্যন্ত ভারতীয় রুপীস বা টাকায় লেনদেন চলে I অটোয় করে ওরা বৌদ্ধ স্তুপা, একটা মার্কেট, একটি বৌদ্ধ মন্দির, এবং সব শেষে হোয়াইট টেম্পল দেখাবে I মায়ানমারে ঢুকতেই সবার প্রথম চোখে পড়বে ওখানকার গাড়ী গুলো রাস্তার ডান দিক দিয়ে চলে I টামু শহরটি যথেষ্ট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন I মায়ানমারের সাইট সিন তাড়াহুরো করে শেষ করে চলে এলাম ইন্দো -মায়ানমার চেক পোস্টের কাছে নামফালং মার্কেটে I টামু মার্কেট ও নামফালং মার্কেট দুটিই বড়ো মার্কেট I ভারতীয় মুদ্রার দাম বেশী বলে অত্যন্ত কম খরচায় এই দুই মার্কেট থেকে বিদেশী দ্রব্য কেনা কাটা করা যায় I এক কার্টন সিগারেট (10 প্যাকেট ) মাত্র 200 টাকায় I সাবান, শ্যাম্পু, বিস্কুট, কেক, চকলেট সব জিনিসের দাম কম ! সুরা প্রেমিকদের জন্যও এই মার্কেট আদর্শ Iযদি চীন, থাইল্যান্ড, মায়ানমারের জিনিস সস্তায় কিনতে চান, তাহলে এই মার্কেটের জুড়ি নেই ! লাগামছাড়া শপিং না করলে কাস্টমস ও কিছু বলে না, দিব্ব্যি আপনি বিদেশী দ্রব্য ট্যাক্স না দিয়ে ভারতে নিয়ে আসতে পারেন I এর পর যেতে হবে শৈল শহর উখরুল, পথ প্রায় 200 কিমি I ইচ্ছা থাকলেও আর বেশীক্ষণ থাকতে পারলাম না, কারণ হোটেলের চেকআউট টাইম দুপুর 12 টা সন্নিকটে I




















No comments