শান্তিপুরের রাস
শান্তিপুরের রাস উৎসব এক ঐতিহ্যপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান।এই উৎসবে শাক্ত ও বৈষ্ণব মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় । গোস্বামী বাড়ীগুলিতে রাধাকৃষ্ণ (বিগ্রহ) পূজিত হওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন বারোয়ারীতে কালীপুজা ও অন্যান্য দেবদেবীর পুজাও হয়ে থাকে ।রাস উৎসবের সম্বন্ধে যে পুরাণ কাহিনী প্রচলিত আছে তা হলো ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গোপিনীদের সাথে রাসলীলা বা রসলীলা করতেন ও এই লীলা পরিচালনা করতেন দেবী যোগমায়া নিজে ।এই লীলাস্থলে অন্য কোন পুরুষের প্রবেশ নিষেধ ছিল ।একদিন দেবাদিদেব মহেশ্বর কৌতুহল বশত রাসলীলা দেখার জন্য নারীর ছদ্মবেশে লীলার স্থলে প্রবেশ করেন । শ্রীকৃষ্ণ সঙ্গে সঙ্গে তা বুঝতে পারেন ও রসে ভঙ্গ দিয়ে লীলাস্থল পরিত্যাগ করেন । যোগমায়া দেবীর তিরষ্কারে কুপিত হয়ে ভোলানাথ প্রতিজ্ঞা করেন যে এই রাসলীলার মর্ত্যে প্রচার হবে ও তিনি মর্তে মনুষ্য রুপে জন্ম গ্রহণ করে প্রতিবছর এই লীলা চাক্ষুস করবেন । তিনিই অদ্বৈত মহাপ্রভু রুপে জন্মগ্রহণ করে শান্তিপুরে বাস করে এই উৎসবের প্রচলন করেন ।এই উৎসব উপলক্ষে যে তিনদিনের শেষের দিনে বিগ্রহ বা অন্যান্য ঠাকুরদের নগর পরিক্রমা করানোর জন্য যে শোভাযাত্রা হয় তার অন্যতম আকর্ষণ হলো রাইরাজা / রাধিকা রাজা ।কথিত আছে রাধারানী একদিনের জন্য রাজা হয়ে সিংহাসনে বসে ছিলেন । তার ই অনুকরণে ব্রাহ্মণ পরিবারের সুন্দরী কিশোরী কন্যাকে রাইরাজা সাজিয়ে সুসজ্জিত হাওদা বা সিংহাসনে বসিয়ে নগর পরিক্রমা করানো হয় ।





No comments