"সুখের দেশ ভুটান" ‘থান্ডার ড্রাগন’এর দেশ ভুটান
"সুখের দেশ ভুটান" ‘থান্ডার ড্রাগন’এর দেশ ভুটান
ভারত-চিনের মাঝে হিমালয়ের কোলে ছোট্ট দেশ ভুটান। ছবির পোস্টকার্ডের মতো ছিমছাম এই দেশে যাওয়ার উদ্দেশ্য শুধু মাত্র তার নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করা নয়। শুনেছিলাম যে, জিএনপি-তে (গ্রস ন্যাশনাল প্রডাক্ট) নয়, ভুটান মনে প্রাণে বিশ্বাস করে জিএনএইচ-এ (গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস)। দেশের রাজা থেকে সাধারণ মানুষ, সকলের একটাই উদ্দেশ্য। তা হল আনন্দে থাকা, সুখে থাকা। এই ছোট্ট দেশটার কাছে মহাদেশগুলো হেরে গিয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের দৌড়ে।
যাত্রা শুরু হল পারো বিমানবন্দর থেকে। পারো থেকে গাড়ি নিয়ে সোজা ভুটানের রাজধানী থিম্পু। ঘন্টা দুয়েকের রাস্তা। যাত্রা শুরুর আগে গাড়ির চালক সোনম জানিয়ে দিলেন, জ়েব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপার না করলে এবং যত্রতত্র ময়লা ফেললে জরিমানা দিতে হবে। এখানে নিয়ম ভেঙে চোখে ধুলো দেওয়া যায় না। সুতরাং সাবধান! থিম্পু পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধে হয়ে গেল। মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছিল আধভাঙা চাঁদ। পাহাড়ের গায়ে বাড়িগুলোর আলো যেন নক্ষত্র। একটা সময়ে অন্ধকার পাহাড়ি পাকদণ্ডী ঠেলে হুশ করে ঢুকে পড়লাম ঝলমলে আলোকিত গমগমে এক শহরে— এটাই থিম্পু। হোটেলের বারান্দা থেকে চোখ চলে গেল বহু দূরে... পাহাড়ের মাথায় কে যেন একা বসে! ধ্যানমগ্ন বুদ্ধ! রুম সার্ভিসের মেয়েটি জানালেন, ওটা পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ বুদ্ধমূর্তি। ব্রোঞ্জের তৈরি, উচ্চতা ১৬৯ ফুট। জায়গাটির নাম বুদ্ধ পয়েন্ট। পরদিন স্থানীয় রেস্তরাঁয় সুস্বাদু ভুটানি ডিশ বাথআপ (হাতে তৈরি নুডলস দিয়ে তৈরি থুক্পা), রুটি ও এমা দাশি (চিজ় ও লঙ্কার পদ) সহযোগে প্রাতরাশের পর থিম্পু চষে বেড়ালাম। ন্যাশনাল টেক্সটাইল মিউজ়িয়ম, ফোক হেরিটেজ মিউজ়িয়ম, মেমোরিয়াল চোর্তেন (স্মৃতিসৌধ), মাইথাং টাকিন প্রিজ়ার্ভ ইত্যাদি। টাকিন ভুটানের জাতীয় পশু। এখন অবশ্য অবলুপ্তির পথে। দেখা হল থিম্পুর সবচেয়ে পুরনো বৌদ্ধমঠ চাংগাংখা লাখাং, প্রায় ৮০০ বছরের পুরনো। নবজাতকের দীর্ঘায়ু কামনায় বাবা-মায়েরা আসেন এই মঠে। সবশেষে বুদ্ধ পয়েন্ট। সন্ধে নামার মুখে তখন চারিদিক মুখরিত গংয়ের আওয়াজে।
থিম্পু থেকে পুনাখা যেতে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা। যাওয়ার পথে দোচুলা পাস। এখানে থামতেই হল। পাইন বনের মধ্যে কুয়াশার লুকোচুরি খেলার ফাঁকে ঝাঁকিদর্শন হচ্ছিল তুষারাবৃত হিমালয়ের। এখানে আছে ১০৮টি চোর্তেন, একসঙ্গে যাদের বলে ড্রুক ওয়াংগিয়াল চোর্তেনস। আছে একটি বৌদ্ধমঠও। দোচুলার কাফেতে ধোঁয়া তোলা কফি এবং টাটকা কেক-প্যাটি খেয়ে আবার যাত্রা শুরু। পুনাখা ভুটানের শীতকালীন রাজধানী। পাহাড়ের মাঝে মাঝে সোনালি ধানখেত। নীচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে দু’টি নদী— পো চু এবং মো চু। এই দুই নদীর মাঝে পুনাখা জং (বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের গুম্ফা ও সরকারি দফতর)। টিকিট কেটে জংয়ের ভিতর ঘুরে দেখা যায়।
পুনাখা থেকে গন্তব্য পারো। পাহাড় ঘেরা পারোর বিমানবন্দর ভুটানের একমাত্র আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট— ‘দ্য মোস্ট ডিফিকাল্ট কমার্শিয়াল এয়ারপোর্ট অব দ্য ওয়র্ল্ড’। পারোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে চোখ জুড়িয়ে যায়। পারো মিউজ়িয়ম, জং, বৌদ্ধমঠ ইত্যাদি দেখার পর অভিযানের প্রস্তুতি! উত্তর পারো থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ফুট উপরে পাহাড়ের গায়ে তাকসাং বৌদ্ধমঠ যাওয়া এক রকম অভিযানই বটে। ১৬৯২ সালে তৈরি হয় এটি। লোককথা, বৌদ্ধগুরু পদ্মসম্ভব বাঘের পিঠে চড়ে তিব্বত থেকে সোজা উড়ে এসেছিলেন এখানে। যার জন্য এই মঠের আর এক নাম টাইগার মনেস্ট্রি। তিব্বতের মতো ভুটানের মানুষ তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের উপাসক। শুধু ধর্ম নয়, পোশাক, খাদ্য, সংস্কৃতি... ভুটানে তিব্বতের ছোঁয়া স্পষ্ট। বাড়ি থেকে পোস্ট অফিস, পেট্রল পাম্প থেকে সুলভ শৌচালয় সবেরই নকশা এক রকম! অধিকাংশ হোটেল, রেস্তরাঁ, দোকান মহিলাকর্মী দ্বারা পরিচালিত। ভুটানিরা সদাহাস্যময়, বড় আলাপি। এখানে মেয়েরা যেমন সুন্দরী, তেমনই স্বাধীনচেতা। ছোট থেকে বৃদ্ধ... সকলেই সব সময়ে পরেন জাতীয় পোশাক।
পারো থেকে চেলে লা (গিরিপথ) হয়ে হা উপত্যকা। প্রায় ১৩ হাজার ফুট উপরে চেলে লা পাসে কনকনে ঠান্ডা বাতাসের জন্য এক মিনিটও দাঁড়ানো দায়। কিন্তু সাদা-নীল ধবধবে আকাশ, হাজার হাজার প্রেয়ার ফ্ল্যাগের মধ্য দিয়ে বরফে মোড়া হিমালয়ের রূপ দেখতে দাঁড়াতেই হবে। সেখান থেকে হা উপত্যকা যাওয়ার পথের দু’ধারে রডোডেনড্রন ও পাইন, নাম না জানা গাছের লাল, হলুদ, কমলা পাতার কম্পোজ়িশন মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতিই সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পী। আর পাহাড়ের চড়াই উতরাই ভাঙা নয়, বৌদ্ধমঠের ইতিহাস খুঁজে বেড়ানো নয়। হা-তে আসা শুধু মাত্র প্রকৃতির মাঝে বসে একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য, আবার রোজকার জীবনে ফিরে যাওয়ার আগে।
ভুটানের ভাষা Dzongkha, বাংলায় উচ্চারণ দাঁড়ায় 'জনক্যা'।
বি:দ্রষ্টব্য: ফ্রেন্ডলি ট্যুরস এবং ট্রাভেলের মালিক রিনচেন এবং ড্রাইভার সোনামের জন্য আমাদের এই ভুটান সফরটি উপভোগ্য এবং স্মরণীয় হয়ে থাকবে
শেষে কিছু জরুরি তথ্য জানিয়ে রাখি –
১) ভুটানের প্রবেশপথ সড়কপথে পশ্চিমবঙ্গের জয়গাঁও বা জয়গাঁ দিয়ে, অথবা আকাশপথে পারো দিয়ে।
২) ভারতীয়দের ভুটান যেতে পাসপোর্ট লাগে না, তবে লাগে পারমিট বা অনুমতিপত্র। এই পারমিট পাওয়া যাবে ফুন্টশোলিং-এর ইমিগ্রেশন অফিস থেকে। পারমিটের জন্য জমা দিতে হবে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ পাসপোর্ট/ভোটার আই ডি কার্ডের ফটোকপি ও দুটি সদ্যতোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি। সঙ্গে অবশ্যই রাখতে হবে অরিজিনাল পরিচয়পত্রটি। এই পারমিট পাওয়া যাবে কলকাতার ভুটান কন্স্যুলেট অফিস, টিভোলি কোর্ট, ১ এ বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের অফিস থেকেও। কিন্তু কলকাতার পারমিট থাক বা নাই থাক, ভুটানে পৌঁছে যাত্রীকে ইমিগ্রেশন অফিসে বায়োমেট্রিক টেস্টের জন্য যেতেই হবে। ফুন্টশোলিং-এ পারমিট দেওয়া হয় সোম থেকে শুক্র, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা ও দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা (ভুটান সময় - যা ভারতীয় সময় থেকে আধঘন্টা এগিয়ে)। পারমিট মুখ্যত থিম্পুর জন্য। থিম্পু ইমিগ্রেশন অফিসে সেটি দেখিয়ে, পুণাখা, হা, বুমথাং ইত্যাদি জায়গার জন্য পারমিট করাতে হবে, তবে, এর জন্য বেশি সময় লাগে না। ছবি ও পরিচয় পত্রের কয়েকটি বাড়তি কপি সঙ্গে রাখা ভাল।
৩) পারমিটের জন্য দরখাস্তে, ভুটানে কতদিন থাকতে চাই জানিয়ে যে তারিখ লিখতে হয়, তাতে ওখানে থাকার সময় ৫/৭ দিন বাড়িয়ে লেখা ভাল, কারণ উল্লিখিত তারিখ পেরিয়ে গেলে জেল বা বড় রকমের আর্থিক জরিমানা হতে পারে।
৪) ভারতীয় টাকা ও ভুটানি নগুলত্রাম সমান। মুদ্রা বিনিময়ের দরকার নেই। সব জায়গায় ভারতীয় টাকা চলে।
৫) ভুটানে প্রায় সর্বত্র পলিথিন প্যাকেট ব্যবহার ও ধূমপান নিষিদ্ধ।
৬) ভুটানে ভারতীয় মোবাইল সিম কাজ করে না, প্রয়োজনে ভুটানি সিম কার্ডের জন্য গাইডের পরামর্শ নিন।
৭) কোথাও ফটো তোলা যাবে কি যাবেনা তার জন্যও গাইডের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সড়ক দূরত্ব -
ফুন্টশোলিং - থিম্পু - ১৭৬ কিমি, থিম্পু - পুনাখা - ৭৭ কিমি, পুনাখা - বুমথাং - ২০৮ কিমি, বুমথাং - ফোবজিখা - ৬৮ কিমি, ফোবজিখা - পারো - ২৫৩ কিমি, পারো - চেলে লা - ৪০ কিমি, চেলে লা – হা - ২৮ কিমি, হা - ফুন্টশোলিং - ২৩৩ কিমি
Bhutan is a small country in the Himalayas between the Tibet Autonomous Region of China and India.
Besides the stunning natural scenery, the enduring image of the country for most visitors is the strong sense of culture and tradition that binds the kingdom and clearly distinguishes it from its larger neighbours. Bhutan is a unique country both culturally and environmentally. Perched high in the Himalayas, it is the world’s last remaining Buddhist Kingdom. It has developed the philosophy of Gross National Happiness; where development is measured using a holistic approach of well-being, not just based on gross domestic product.The national language of Bhutan is Dzongkha.
The Druk is the "Thunder Dragon" of Tibetan and Bhutanese mythology and a Bhutanese national symbol. A druk appears on the flag of Bhutan, holding jewels to represent wealth. In Dzongkha, Bhutanis called Druk Yul "Land of Druk", and Bhutanese leaders are called Druk Gyalpo, "Thunder DragonKings".
Thimphu (ཐིམ་ཕུག།) is the capital of the Kingdom of Bhutan, and with a population of around 80,000 is the nation's largest city.
DOCHULA PASS : Dochula Pass, situated along the Thimphu to Punakha road is a mountain pass of Bhutan.Overlooking the snowcapped mountains, Dochula Pass is marked by the 108 memorial chortens.
Punakha (སྤུ་ན་ཁ་) One of the most beautiful valleys in Bhutan it attracts many tourists. The town which is 77 kilometers away from Thimphu, takes about three hours to reach. It was once the capital of Bhutan from 1637 till 1955
Paro(སྤ་རོ་) Paro is a town in Bhutan. Paro valley extends from the confluence of the Paro Chhu and the Wang Chhu rivers at Chuzom up to Mt. Jomolhari at the Tibetan border to the North. This picturesque region is one of the widest valleys in the kingdom and is covered in fertile rice fields and has a beautiful, crystalline river meandering down the valley.
Chele La Pass: Bhutan is a mountainous country linked with series of passes. Located at 3810m (13,000ft), between the valley of Paro and Haa is Chele La, the highest road pass in the country.
N.B : N.B :-A special Thanks to my Tour Operator Mr .Rinchen Bhutan Tour Planner and Driver Wangdi Sonam who make my tour fully enjoyable and memorable ...Tashi Delek !























No comments