Header Ads

মুকুটমণিপুর-অযোধ্যা পাহাড়- মাইথনের শিক্ষামূলক ভ্রমণ

 


ছাত্র-ছাত্রীদের অনুরোধে মাত্র ১০ দিনের নোটিশে ২ রাত তিন দিনের মুকুটমণিপুর-অযোধ্যা পাহাড়- মাইথনের শিক্ষামূলক ভ্রমণ আমরা সমাপন করলাম I

২৬.০৯.২০২৩ : ঠিক সকাল ৮:২২ মিনিটে ২৩ জন স্টুডেন্ট সঙ্গে ৬ জন শিক্ষক মিলে যাত্রা শুরু হয়েছিল I পুরুলিয়ার গরমের কথা ভেবে আমরা ২৬ সিটের এ.সি ট্রাভেলার গাড়ী ভাড়া করা করেছিলাম I পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত অযোধ্যা যুব আবাস আগে থেকেই অনলাইনে পেমেন্ট করে বুক করে রাখা হয়েছিল I কল্যাণীর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সেতু দিয়ে বড়ো গাড়ী চলাচল নিষিদ্ধ, সেই কারণে আমাদের ডানকুনি হয়ে বালি ব্রিজ পেরিয়ে আরামবাগ হয়ে বাঁকুড়ায় যখন ঢুকলাম সকলের ক্ষিদে পেয়ে গেছে I বাঁকুড়া জেলার দেরুয়া গ্রামের ঢলডাঙ্গায় হাইওয়ের ওপর "গ্রাম বাংলা হোটেল ও রিসোর্ট " লাঞ্চ সারা হলো I হোটেলটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, ছিমছাম, খাবার মন্দ ছিল না I আমাদের গন্তব্য মুকুটমণিপুর I ২৮৭ কিমি রাস্তা পৌঁছতে প্রায় বিকেল ৪ টা বেজে গেল I তবে জলাধারের সৌন্দর্য, ব্যাপ্তি দেখে শরীরের ক্লান্তি দূর হয়ে গেল I
মুকুটমণিপুর কে বলা হয় দ্যা কুইন অফ বাঁকুড়া (বাঁকুড়ার রানী) অম্বিকা নগরের রাজা গোপীনাথ ধবল দেবের রানী ছিলেন মুকুটমণিপুর দেবী।তার নাম অনুসারে আজকের মুকুটমণিপুর। শহরের কোলাহল, রাস্তায় জ্যাম, দূষণ থেকে একটু মুক্তি পেতে চান? তাহলে মুকুটমণিপুর হতে পারে আপনার পার্ফেক্ট ডেস্টিনেশন। মুকুটমণিপুর বাঁধটি বাঁকুড়া জেলার খাতড়া মহকুমায় অবস্থিত I ড্যামের উপরে নীল আকাশ, নিচে কংসাবতী জলাধার এর দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি আপনার চোখে এনে দেবে তৃপ্তি আর মনে দেবে অপার শান্তি। প্রায় ৮৬ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে ১১.৭ কিলোমিটার লম্বা এবং ৩৮ মিটার উঁচু বাঁধ দিয়ে কংসাবতী নদীর জল কে ধরে রাখা হয়েছে।এটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাটির বাঁধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ১৯৫৬ সালে নির্মিত হয়েছিল তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান চন্দ্র রায় এর শাসনকালে I আমাদের গন্তব্য পুরুলিয়া জেলার অযোধ্যা পাহাড় অর্থাৎ আরো ১৩০ কিমি পারি দিতে হবে, সময় নষ্ট না করে আবার গাড়িতে ওঠা হলো I প্রায় ঘড়ির কাঁটা ছুঁই ছুই ৯ টা, অবশেষে অযোধ্যা হিল টপে অবস্থিত যুব আবাসে পৌছালাম I ডিনারের অর্ডার মুকুটমণিপুর থেকে রওনা দেওয়ার সময় করা হয়েছিল I সব্জি ভাত খেয়ে ঘুম I


২৭.০৯.২০২৩ : সকালটা হলো কুয়াশা ভরা অযোধ্যা পাহাড় দিয়ে, ক্যান্টিন থেকে চা খেয়ে সকাল ৮ টায় অযোধ্যা পাহাড় সাইটসিন শুরু হলো I পশ্চিমবঙ্গের ভ্রমন মানচিত্রে পুরুলিয়ার স্থান একদম প্রথম সারিতেই। যেখানে গেলেই বাড়ির কাছাকাছি একটা আস্ত পাহাড় আছে ভেবে দিল খুশ হয়ে যায়। আর এই পুরুলিয়ার সেরার সেরা তকমা যার দখলে তার নাম নিঃসন্দেহে অযোধ্যা পাহাড়। দলমা পাহাড়ের একটি অংশ এবং পূর্বঘাট পর্বতমালার একটি সম্প্রসারিত অংশ এটি। বেশ কয়েকটি চূড়া রয়েছে এই পাহাড়ে। তার মধ্যে সবচেয়ে উঁচু হল গোরগাবুরু। অযোধ্যা পাহাড় কি শুধু পাহাড় দেখতেই যাবেন???
মোটেই না। অযোধ্যা পাহাড় মানে চোখজুড়ানো ল্যান্ডস্কেপ, জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সুন্দরী ঝর্না, সুবিস্তৃত ড্যাম, পৌরাণিক গল্প কথা এবং এখানকার উপজাতি দের জীবন যাপন, মুখোশ গ্রামে ছৌ নাচের মুখোশ...এই সবকিছু।


আমরা দেখেছি অযোধ্যা পাহাড়ের প্রায় ১০টি জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছি।
*মার্বেল লেক🌅
*বামনী ফলস্💦
*তুর্গা ফলস্🌊
*তুর্গা ড্যাম 💧
*আপার ড্যাম💧
*লোয়ার ড্যাম💧
*চড়িদা গ্রাম🏘️
*খয়রাবেরা ড্যাম💧
*ময়ুর পাহাড়⛰️
*পাখি পাহাড়⛰️


প্রথমেই গেলাম মার্বেল লেক I মার্বেল লেক হলো পুরুলিয়ার ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’I একটা বিস্ফোরণ৷ পাথরের খাঁজ কেটে বেরিয়ে এল গিরিখাত৷ গিরিখাতকে সিক্ত করা ঝরণা লালমাটির বুকে তৈরি করল হ্রদ – পোশাকি নাম, মার্বেল লেক৷ হ্যাঁ, রুক্ষ পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের মাথায় এমন এক হ্রদ তো প্রকৃতিরই দান৷ এর চেহারা দেখে অনেকেই তুলনা করছেন আমেরিকা-কানাডা সীমান্তে ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’-এর সঙ্গে৷ এই মার্বেল লেকই পুরুলিয়ার পর্যটন মানচিত্রকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চলেছে৷অযোধ্যা হিলটপ থেকে বামনি ঝর্নার দিকে গেলে ডান দিকে এক মনোরম জলাশয়ের দেখা মিলবে। পৃথিবীর চতুর্থ সর্ববৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প পুরুলিয়া পাম্প স্টোরেজ প্রোজেক্টের জন্য বিস্ফোরণ করে পাথর ভাঙতে গিয়ে সেই পাথরের খাঁজে তৈরি হয় এটি৷ অচিরেই ভ্রমণার্থীদের মন জয় করে নেয়। লোকে সাধারণত মার্বেল লেক বলে ডাকলেও এটির অনেক নাম আছে। কেউ বলেন পাতাল ড্যাম। ঘন নীল জল থাকার কারণে নীল ড্যাম বা ব্লু লেক নামেও পরিচিত।আমেরিকার অ্যারিজোনার কলোরাডো নদী ঘিরে ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’–এর মত অযোধ্যা পাহাড়ের মার্বেল লেক অত দীর্ঘ, বিস্তৃত গভীর না হলেও এ যেন তারই ক্ষুদ্র সংস্করণ৷ গভীর খাদে নীল জলরাশি। সেইসঙ্গে পাথরের খাঁজ। তার পাশে লম্বা টানা পাহাড়ে ঘন সবুজ জঙ্গল। চেহারায় অনেকটা ছবিতে দেখা ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ কেই মনে করায় বাঙালি পর্যটকদের।দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। প্রশান্তিতে ভরে ওঠে মন। এখানে নাকি চাঁদের পাহাড় সিনেমার শুটিং হয়েছে যেটা খানিকটা আমাজোন বলে চালানো হয়েছে।
দ্বিতীয় গন্তব্য ছিল বামনী ফলস I এটি দেখতে গেলে প্রায় ২০০ সিঁড়ি ভেঙ্গে প্রায় ৫০০ মিটার নীচে নামতে হয় I এই সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় প্রকৃতির অপরূপ সুন্দর দৃশ্য দেখতে পাবেন । ঝর্ণায় নামার সময় পথটি আপনাকে সবুজ ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাবে যেটা জঙ্গলে ট্রেকিংয়ের মতো একটি অনন্য অভিজ্ঞতা হবে ।এটি প্রথম স্টেজ I দ্বিতীয় স্টেজ যেতে গেলে আরো নীচে নামতে হয়, যেটা খুব দুর্গম I আমরা প্রথম স্টেজ দেখে ফিরেছি I প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতা থেকে বামনী জলপ্রপাতের জল নেমে আসে, বর্ষায় যার রূপ হয়ে যায় অপরূপ এবং সেই সাথে ভয়ঙ্কর I


তারপর গেলাম তুর্গা ফলসে I বামনি ফলস
থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরেই টুর্গা ফলস।
অপেক্ষাকৃত অল্প সিঁড়ি, গোটা ৫০ ধাপ নামলেই দেখা যাবে এই ক্যাসকেডিং জলপ্রপাতটি I এটা বামনির মতো বড় না হলেও দিব্যি সুন্দরী তুর্গা।
এর পর কিছুটা পথ পাড়ি দিয়ে যখন তুর্গা ড্যামের সামনে এসে নামলাম, মনটা আবার নেচে উঠলো আনন্দে I মনের আর কি দোষ, প্রথমত এখানেও আমরা বিলকুল একা, অন্য কোনো ট্যুরিস্ট নেই; দ্বিতীয়ত এ ড্যামের সৌন্দর্য কোনো অংশে খয়রাবেড়ার থেকে কম নয় এবং তৃতীয়ত এখান থেকে তুর্গা জলপ্রপাতও চোখে পড়ে। তুর্গা ড্যামের ভিউ খুবই সিনিক তা বলার অপেক্ষা রাখে না I


পরবর্তী গন্তব্য চড়িদা-মুখোশ গ্রাম I
এই গ্রাম নিয়ে বলতে গেলে একটি গল্প রচনা হয়ে যায়। এটা ছৌ নাচের আঁতুরঘর। কলকাতার যেমন একটা কুমোরটুলি আছে, পুরুলিয়ার আছে চড়িদা। শিল্পীদের ষ্টুডিও, আর সেখানে রং বেরঙের ছৌয়ের মুখোশ। ঘর সাজানো থেকে ছৌ নাচের মুখোশ সবটাই পাবেন এখানে। মুখোশ শিল্পীদের বয়স বাঁধ মানে না ,বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলকেই দেখবেন মুখোশ বানানোর কাজে হাত লাগিয়েছে। তাঁদের নিখুঁত হাতের কাজ আপনাকে অবাক করবে। ৩০-৪০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার, দু;হাজার, পাঁচ হাজার সবরকমের রকমারি মুখোশ পাবেন এখানে। এমনকি চাইলে বাড়ি বসে অনলাইনে অর্ডার করার সুবিধাও মিলবে এই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে। বিদেশ বিভূঁইয়ে অনায়াসেই পৌঁছে দেবেন মুখোশ শিল্পীরা।
খয়রাবেরা ড্যাম -পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের খুব কাছেই মাত্র ২০ কিমি দূরে একটি সুন্দর পর্যটন স্থান হল খয়রাবেরা ড্যাম। দুদিকে দুটি পাহাড় উঠে গেছে, পাহাড়সারির নাম চেংটাবুরু, মাঝখানে প্রায় দেড় কিলোমিটার লম্বা এই খয়রাবেড়া ড্যাম। এটি একটি সুন্দর সেচ বাঁধ যা অয্যোধা পাহাড়ের ঢালে এবং বাঘমুন্ডি বনের মাঝে অবস্থিত। স্থানটির দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনার মন ভরিয়ে দেবে । জায়গাটির সৌন্দর্য হ’ল এর নির্মলতা, অসম অঞ্চল, ঘন উদ্ভিদ।
এরপর চলে গেলাম লোয়ার ড্যাম I নীচে নামা বারণ I কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা একটা ছোট পাঁচিল মতো, সেখানে দাঁড়ালাম। নীচে চোখ যেতেই দেখি আকাশের মতো নীল জল। ছবির মতোই সুন্দর নীচের গ্রামগুলো।উপর থেকেই ছবি তোলা হলো I তারপর যাওয়া হলো আপার ড্যাম দেখতে। একদিকে প্রশস্ত বাঁধ, অন্যদিকে ঘন অরণ্য। মাঝখান দিয়ে কয়েক কিলোমিটারের লম্বা ব্রিজের মতো রাস্তা, এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তকে আগলে রেখেছে।


ইতিমধ্যে বিকেল হয়ে গেছে, আজকে আমাদের
শেষ গন্তব্য ছিল ময়ূরপাহাড় I ময়ূর পাহাড় হল অযোধ্যা পাহাড়ের একটা বর্ধিত অংশ । আপনার মনে প্রশ্ন উঠতে পারে এই পাহাড়ের নাম ময়ূর পাহাড় হল কেন ?এই জায়গাটি একসময় ময়ূর ঘুরাঘুরির জন্য বিখ্যাত ছিল ।অযোধ্যা পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু টিলা এটি। মায়াবী আলোয় সূর্য ডোবে এখানে। এখানে নির্মিত ওয়াচ টাওয়ার থেকে পুরো জঙ্গল পাহাড়ের এলাকাটা দেখতে পাবেন। দূরে মাঠাবুরু, গজাবুরু, পাখি পাহাড়, গোর্গাবুরু দেখতে পাবেন। খুব ভালো লাগবে।
আজকের মতো পুরুলিয়া ভ্রমণের ইতি টানা হলো I


২৮.০৯.২০২৩ : আজকে আমাদের শিক্ষামূলক ভ্রমণের শেষ দিন এবং বাড়ী ফেরার পালা I সকাল ৬:৩০ এ বের হয়ে প্রথম যাওয়া হলো পাখী পাহাড় Iনাম শুনে মনে হতে পারে অনেক পরিযায়ী পাখির আবাস এই জায়গা। কিন্তু তেমনটি একেবারেই নয়। একটি অনুচ্চ পাহাড়ের গায়ে অসংখ্য উড্ডীয়মান পাখির প্রতিচ্ছবি আঁকা। বেশিরভাগ পর্যটক পাহাড়টি দূর থেকে দেখে ফিরে যান। কিংবা গাড়ি থেকে নেমে দশ মিনিট সামান্য রেস্ট। কিন্তু এর ইতিহাস জানলে রহস্য ক্রমশ দানা বাঁধবেIবিগত কয়েকবছর ধরে শিল্পী চিত্ত দে এই পাহাড়ে ‘ইন-সিটু রক স্কাল্পচার’-এর কাজ করছেন। সাধারণত ভাস্কর্যশিল্পীরা বাছাই করা পাথর তুলে স্টুডিওতে নিয়ে এসে সেই পাথর কেটে মেলে ধরেন নিজের শিল্পকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পাথরটিকে যথাস্থানে রেখেই তাতে খোদাই করা হয়েছে বিভিন্ন আকৃতির পাখি, ঠিক যেমনটা আমরা অজন্তায় দেখতে পাই। ১৯৯৭ সালে সরকারি আর্থিক অনুদানে কাজ শুরু করেন শিল্পী। সরকারি অনুদানের সঙ্গে তাঁকে অনুরোধ করা হয় কয়েকজন ভাস্কর্যশিল্পীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্য।


কিন্তু শিল্পী চিত্ত দে স্থানীয় আদিবাসী লোকেদের সঙ্গে কাজ করার উপর জোর দেন। প্রথম চার বছর ধরে প্রায় পঞ্চাশ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করলেও অবশেষে চব্বিশ জনকে নিয়ে দলবদ্ধ ভাবে কাজ শুরু করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের উপর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় এনামেল রং ব্যবহার করে ছবিগুলো আঁকেন। রং-এর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে খোদাইয়ের গভীরতার সংকেত। ছেনি-হাতুড়ি সম্বল করে খোদাইয়ের কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে ৬৫টি ডানামেলা পাখির ভাস্কর্য খোদাই করেন। যার সব চেয়ে ছোটো ডানার দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট আর সব চেয়ে বড়ো ডানার দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট।প্রথমে পাহাড়টির নাম ছিল ‘মুরা বুরু’ (উচ্চতা ৮০০ ফুট)। ধীরে ধীরে পাহাড়টি ‘পাখি পাহাড়’ নামে পরিচিতি পায়। চারদিকে ঘন জঙ্গল। শাল সেগুনে ভরা পাহাড়ি লাল রাস্তা। মাঝে মাঝে কাঠ কুড়ুনিদের দেখতে পাওয়া যাবে। দূর গ্রাম থেকে তারা আসেন প্রতিদিন কাঠ সংগ্রহের উদ্দেশে।


পুরুলিয়া মানেই লাল মাটির রাঙা পথ,ছোট ছোট টিলা,ঝর্না আর সুদূর প্রসারিত শাল,শিমুল,মহুয়া। আমাদের পুরুলিয়া ভ্রমণের শেষ পর্যটনস্থলটি ছিল জয়চন্ডী পাহাড় I পুরুলিয়া শহর পেরিয়ে রঘুনাথপুর হয়ে শেষে পৌঁছালাম জয়চন্ডী পাহাড়ের পাদদেশে। এই সেই জয়চন্ডী পাহাড় যেখানে হীরক রাজার দেশের শ্যুটিং হয়েছিল, শুন্ডীর রাজার দুই জামাইয়ের সঙ্গে পাঠশালার পন্ডিত উদয়ন মহারাজের প্রথম দেখা হয়েছিল।
তারপর যাওয়া হলো মাইথন জলাধার দেখতে পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড সীমানায় বরাকর নদের উপর ১৫৭১২ ফুট দীর্ঘ ও ১৬৫ ফুট উঁচু বাঁধ এবং ৬৫ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে দেখার মতো জলাধার।বাঁধের একদিকে অনেকটা নীচে রয়েছে ডিভিসি-র জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন পরিচালিত মাইথন বাঁধটি পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডকে আলাদা করেছে। বাঁধ তৈরি হয়েছিল মূলত বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য। আশেপাশে আছে ছোট-বড় অজস্র পাহাড়।বাড়ী ফেরার পথে বর্ধমানের শক্তিগড়ের বিখ্যাত ল্যাংচা না খেলে হয়? প্রায় সকলেই বর্ধমানের মিহিদানা,সীতাভোগ, ল্যাংচা কিনলো I দীর্ঘ পথের পরিসমাপ্তি ঘটলো রাত ১০:৩০ মিনিটে I








No comments

Powered by Blogger.