Header Ads

বাংলাদেশের ডায়েরি : পর্ব ১: যশোর ও পদ্মা সেতু

 




বাংলাদেশের ডায়েরি : পর্ব ১: যশোর ও পদ্মা সেতু

১৯.০৭.২০২৩ :এবারে বাংলাদেশ যাওয়াটা হটাৎ হয়ে গেল I অনেকদিন স্থলবন্দর দিয়ে যাওয়া হয়নি বলে ঠিক করলাম এবার গেদে-দর্শনা অথবা পেট্রাপোল-বেনাপোল হয়ে যশোর যাবো I অনেকেই ভীড়ের কারণে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে যাওয়ার কথা মানা করলেও, শেষপর্যন্ত ওটাই বাছলাম I যথারীতি ১৯ তারিখে বনগাঁ পেট্রাপোল সীমান্তে পৌঁছে দেখলাম রাস মেলার ভীড়! খুব ছোট বেলা থেকে এই সীমান্ত দিয়ে অনেকবার গিয়েছি, কিন্তু দিনে দিনে অধঃপতন ঘটেছে I চারিদিকে দালালে ভর্তি I যাত্রীসুবিধা নূন্যতম I গরু-গাধার মতো ছাউনিবিহীন জায়গায় রোদের মধ্যে মানুষ দাঁড় করিয়ে রেখেছে I প্রখর রোদ্দুর মাথায় নিয়ে আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে গেলাম ইমিগ্রেশনের জন্য I যাত্রীদের মধ্যে ৫ জন ইন্ডিয়ান থাকলে ৯৫ জন বাংলাদেশ ফিরে যাচ্ছে I বৃষ্টি আসার উপক্রম হওয়ায় লাইন বেলাইন করে সকলেই একটা ক্ষুদ্র ছাউনির মধ্যে এসে গেল, সে এক দমবন্ধ করার অবস্থা I বাংলাদেশি যাত্রীরা ঠিক মতো লাইন মেইনটেইন করলেন না , কিছুটা শৃঙ্খলাহীন, সেই কারণে বিএসএফ রা ও লাঠি হাতে তেড়ে আসছে, ওদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে, বিপদ বুঝে আমি ইন্ডিয়ান পাসপোর্ট হাতে নিয়ে রাখলাম, ঘন্টা খানেক এই ভাবে থাকার পর বিএসএফ অনুমতি দিল ইমিগ্রেশন ঘরে ঢোকার, সম্ভবত একবারে ৭০-১০০ জন করে ঐ ঘরে ঢোকায় I এখানে লাইন থেকে ইমিগ্রেশন ঘর প্রায় ৩০ মিটার দূর, সেখানেও সবাই দৌড়ালো, আমার বড়ো বড়ো ব্যাগ থাকায় সবার পেছনে পড়লাম I এতো যাত্রী থাকা সত্ত্বেও পাহাড়প্রমাণ প্রেসার নিয়ে ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিসার রা দারুন কাজ করছেন I তাঁদেরকে শুধু ধন্যবাদ দিলে ছোট করা হবে! ইন্ডিয়ান কাস্টমস পার করে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনে ঢোকা মাত্র এক বাংলাদেশি দালাল (যিনি বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন অফিসারের পাশে বসেই দালালি করছেন ) ইমিগ্রেশন অফিসার কাঁচের কক্ষে, বাইরে দালাল, করোনা সার্টিফিকেটের প্রিন্ট দেখাতে না পারার জন্য ঐ দালাল বাংলাদেশি ২০০০ টাকা আমার কাছ থেকে bluff মেরে নিয়ে নিলো I চরম রৌদ্র, ভীড়, গরম, হুটপাটা, অব্যাবস্থা সামলে ঝামেলায় না গিয়ে ক্লান্ত অবসন্ন অবস্থায় মুক্তি চাইছিলাম I ফর্মালিটি শেষ করে বেনাপোল থেকে সোজা গাড়ী নিয়ে যশোর I আমার পরামর্শ হচ্ছে দারুন ফিটনেস, ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা থাকলে তবেই পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে আসুন I


২০.০৭.২০২৩ : দ্বিতীয়দিনে মেজোমামার বাড়ী দাওয়াত ছিল I মেজোমামি খুব সুন্দর খাসির বিরিয়ানি বানিয়েছিলেন I টেবিল ভরা খাবার I ডিমের কোর্মা থেকে রূপচাঁদা মাছ, খাসি, মুরগীর বিভিন্ন পদ ছাড়াও I কোনটা ছেড়ে কোনটা খাবো! সব কিছু একটু একটু করে খেলেই পেট ভরে যাবে I আমি মিষ্টি খেতে ভালোবাসি বলে মেজোমামা স্পেশাল মিষ্টি আনিয়েছিলেন I সে খাবার জায়গা আর ছিল না, প্যাক করে পড়ে ঢাকায় নিয়ে এসে খেলাম I বিকেলে স্বপন মামা নিয়ে গেলেন যশোর থানার পেছনে মেজো মামার Mofidul Haque Raju নতুন নির্মিয়মান আটতলবিশিষ্ট ইমারতে, সেখানকার ছাদ থেকে যশোরের একটা বার্ডস আইভিউ পেলাম I
২১.০৭.২০২৩: তৃতীয়দিনে যশোর থেকে ঢাকা যাওয়ার দিন I ছোটমামা AC Hiace গাড়ী বুক করলেন I আগে আমরা বাসে যেতাম I ছোট মামা Rafidul Haque Toton আমাকে ভালো করে পদ্মা সেতু দেখানোর জন্য প্রাইভেট গাড়ী বুক করে দিলেন I কিন্তু বিধি বাম I এইচএমএম রোড থেকে মনিহার আসতেই গাড়ীর এসি বিগড়ে গেল, মেকানিক্স দেখিয়েও ঠিক হলো না, মামা বিকল্প গাড়ী পাওয়ার অনেক চেষ্টা করলেন, শুক্রবার তার উপর নামাজের টাইম এগিয়ে আসছে, গাড়ী না পেয়ে অগত্যা ঐ গাড়ীতে করেই ঢাকা যাত্রা শুরু হলো I পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যশোর -ঢাকা প্রায় ৪ ঘন্টা তে পৌঁছানো যাচ্ছে নড়াইল - গোপালগঞ্জ হয়ে , আগে ৭-৮ ঘন্টা লাগতো যখন ফেরি পারাপার করতে হতো I গোপালগঞ্জের সাম্পান রেস্টুরেন্টে গাড়ী ব্রেক দিল,নাস্তা খেয়ে আবার যাত্রা শুরু, ধীরে ধীরে বাংলাদেশের গর্ব পদ্মাসেতুর টোলগেটে পৌঁছে গেলাম I ১৩০০ টাকা টোল দিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু পদ্মা ব্রিজ পার হতে লাগলাম I বিশাল পদ্মা নদীর সৌন্দর্য মন ভরে গাড়ীর ফ্রন্ট সিট থেকে দেখতে থাকলাম I এই সেতুর কারণে ঢাকা-কলকাতা দূরত্ব কমেছে ১৫০ কিমি I বিশেষ করে বিদেশি সাহায্য ছাড়াই বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার, যেভাবে ৩০ হাজার কোটি টাকায় প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সম্পন্ন এই সেতুটি নির্মাণ করেছে তার প্রশংসা করতেই হবে Iমূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। এর অ্যাপ্রোচ সড়ক ১২.১১ কিলোমিটার। দ্বিতলবিশিষ্ট এই সেতুতে পরে ট্রেন চলবে I পল্টনে খালাদের হোটেলে নামিয়ে চলে গেলাম বসুন্ধরার বড়ো আপার ফ্ল্যাটে I


(চলবে)

No comments

Powered by Blogger.