Header Ads

মিজোরাম ভ্রমন (দ্বিতীয় পর্ব) : A Trip to Mizoram (Part:2)

 মিজোরাম ভ্রমন দ্বিতীয় পর্ব



আজ রবিবার, তারিখ অক্টোবরের ৯, সকাল সকাল ব্রেকফাস্ট করে নিলাম ৮ টার মধ্যে I আজ আমাদের ডেস্টিনেশন ছিল থেনজল I আইজল থেকে থেনজলের দূরত্ব ৯২ কিমি, সময় লাগে প্রায় চার ঘন্টা, পথে সাইটসীন করতে করতে যাবো বলে ওটা প্রায় ৬ ঘন্টায় পরিণত হবে I হানিফ ফোন করে বললো ও আজ আসতে পারবে না, বদলে নতুন ড্রাইভার পাঠাচ্ছে I আসলে হানিফ রিয়েলি ব্যস্ত মানুষ, Wagon R, Dezire ZXI,Bolero,Toyota Innova চার খানা গাড়ীর মালিক এবং নিজে ড্রাইভিং করে I মিজোরামে কেউ বসে থাকে না, কিবা পুরুষ, কিবা নারী সকলেই কাজে ব্যস্ত I কাজের মধ্যে Gender Discrimination নেই, ঘরের বৌ দোকান চালাচ্ছে, পুরুষ মানুষ রান্না এবং ঘরের কাজ করছে, মিজোরামের ৯৯% দোকান দেখাশোনা করছে মহিলারা I সরকারের চেয়েও মিজোরামে চার্চের ক্ষমতা বেশী মনে হলো I রবিবারে মিজোরামে বন্ধ বা হরতাল হচ্ছে বলে মনে হবে I সমস্ত দোকান বন্ধ, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বন্ধ, রেস্টুরেন্ট বন্ধ, পার্ক, পর্যটনস্থল বন্ধ I রাস্তা
ফাঁকা I কেউ কেউ অবশ্য রবিবার দোকান খুলতে চেয়েছিলো, কিন্তু অধিকার পায় নি I সেদিন নতুন ড্রেস পরে চার্চে প্রার্থনা করাই মিজোদের দস্তুর I তা এহেন রবিবারে বেরিয়ে দেখলাম রাস্তায় ট্রাফিক প্রায় শূন্য I আজ আমাদের ড্রাইভার নবীন সিলওয়াল, ইয়ং নেপালি ড্রাইভার, হিন্দি বোঝে I প্রথম স্টপেজ হলে ফালকন (Falkawn)যা আইজল থেকে ঘন্টাখানেকের পথ I এখানে একটি টিপিকাল মিজো ভিলেজ মডেল করে রাখা আছে I নেমে দেখলাম যথারীতি বন্ধ! তার পরের স্টপেজ মাউবুয়াং এ Tropic Of Cancer ( কর্কটক্রান্তি রেখা ), ভূগোলের সেই ২৩.৫ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ, রাস্তার উপর দিয়ে মার্ক করা আছে, গ্লোব, পিলার বসিয়ে বেশ ছবি তোলার মতো ব্যবস্থা করেছেন মিজোরাম সরকার I কৃষ্ণনগর থেকে মায়াপুর যেতে গেলেও এই অক্ষরেখা মিলে যাবে I ছবি তুললাম বেশ কয়েকটা, এবার নবীন গাড়ী থামালো মিডাম খাম ভিউ পয়েন্টে , এটি সুমসুই তে অবস্থিত I ভিউটা চেরাপুঞ্জি যেতে গেলে যেমন লাগে ঠিক তেমন I আবার পথ চলা শুরু I যাবো মুইফাং (Hmuifang) মুইফাং মিজোরামের অন্যতম জনপ্রিয় পার্বত্য শহর। আইজল শহর মুইফাং থেকে দূরত্ব ৫০কিমি। ঘন্টা দুয়েকের পথ I এখানে Govt ট্যুরিস্ট লজ আছে I খুব সুন্দর ঘর গুলো I ভাবলাম লাঞ্চ এখান থেকে করে নেবো! বিধি বাম, রবিবার!! এখানে লাঞ্চ খেতে চাইলে অনেক আগে থেকে অর্ডার দিতে হয়, ধরুন সকালে বলে দিতে হবে লাঞ্চের কথা I মুইফাং এ কি পাবেন? সবুজ গালিচায় মোড়া প্রশস্ত উঁচুনিচু প্রান্তর। পাহাড় দিয়ে ঘেরা, পাহাড়ের অরণ্যের অনেকাংশেই মানুষের পদচিহ্ন পড়েনি এখনও।একটা পার্ক আছে, যদিও রবিবার বন্ধ ছিল I খোলা থাকলেও যেতাম না, কারণ ট্যুরিস্ট লজের সামনের ভিউ পার্কের চেয়ে ভালো I ট্যুরিস্ট রিসোর্ট থেকে ১ কিমি এগিয়ে ডান দিকে একটা ভিউ পয়েন্ট রয়েছে I এখান থেকে মুইফাং টলাং দেখা যায় I মিজো ভাষায় টলাং কথার অর্থ পাহাড় I কিন্তু ভিউ পয়েন্টে পৌঁছে মন খারাপ হয়ে গেল I মেঘ কুয়াশায় ঢেকে সব সাদা হয়ে গেছে I আমরা অবশ্য আগামীদিন এই পথেই ফিরবো, অতোএব আরেকটা চান্স থাকবে I এর পর গেলাম সিয়ালসুক, প্রকৃতি দেবী মুখ তুলে চেয়েছেন এবার I রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া, সূর্যকিরণে উদ্ভাসিত বা ঝলমলে হয়ে আছে পুরো সিয়ালসুক টলং I সিয়ালসুক (Sialsuk) মিজোরামের একটি দর্শনীয় স্থান I গাড়ী নিয়ে ওঠা যায় সিয়ালসুক পাহাড়ে অনেকটাই I এন্ট্রি ফী দিতে হবে মাথা পিছু চল্লিশ টাকা I সিয়ালসুক পাহাড়, অনেকটাই দার্জিলিং র গোপালধারা টি গার্ডেনের গোল গোল পাহাড়ের মতো I এই রকম গোটা পাঁচেক পাহাড় আছে I আমরা মিডিয়াম দুটোতে উঠলাম,যত উঁচুতে উঠবেন ততো বেটার ভিউ, সিয়ালসুক টলাং থেকে ৩৬০ ডিগ্রী ভিউ পাওয়া যায় I চারদিকে পাহাড়, সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস, নীচে সবুজ প্রশস্ত ঘাসের উপর গরু বিচরণ করছে , ভিউ টা বিদেশ বিদেশে বললে অতিরঞ্জিত হয় না! পাহাড়ের উপর দোলনা, বসার বেঞ্চ ছিল, এবং বড়ো বড়ো Cross ছিল I জায়গাটা সত্যিই সুন্দর, এখানে ঘন্টাখানেক এখানে নিমেষের মধ্যে কেটে যাবে I দেখতে দেখতে দুপুর ২ টা বেজে গেছে, তখনো লাঞ্চ হয় নি, বাচ্চারা ঝামেলা করছে, নবীনকে বললাম আজ আর সাইট সীন করবো না, একদম থেনজল টুরিস্ট লজ নিয়ে চলো I সিয়ালসুক থেকে থেনজল ২৫ কিমি রাস্তা I এই ট্যুরিস্ট লজ টা চালতল্যাং র মতো বড়ো নয় I গোটা ৬-৭ কটেজ আছে, ভাড়া ১০০০ টাকা, ডিলাক্স রুম ১২০০ টাকা, ডিলাক্স রুম নিলে কংক্রিটের ঘর পাবেন, রেনোভেশন চলছে I যথারীতি দুপুরের খাবার জুটলো না, তবে থেনজল টুরিস্ট লজের সামনে অসমের এক ভদ্রলোকের রেস্টুরেন্ট আছে (বাংলা জানেন বা বোঝেন ) , নবীন সেখানে নিয়ে গেল, যথেষ্ট ভালো খাবার পেলাম I বলে রাখি মিজোরামে আউট স্টেশনে গাড়ী নিয়ে গেলে, গাড়ীর নাইট চার্জ ছাড়াও ড্রাইভারের Dormitory তে থাকার খরচা ( ২০০ টাকা ), ড্রাইভারের খাওয়া দাওয়া পার্টি কে বহন করতে হয় I আপনি যা খাবেন, ড্রাইভারকেও দেবেন, মাংস ভাত বা ডিম ভাত, বা সবজি ভাত একই রেট ছিল থেনজলের ঐ অসমীয়া ভদ্রলোকের রেস্টুরেন্টে এবং এমনকি পরের দিন সিয়ালসুকের একটি রেস্টুরেন্টেও!রাতের ডিনার টা থেনজল টুরিস্ট লজেই করেছিলাম I থেনজলকে বেস কেন করেছিলাম? কারণ দুটি ফলস, যেটা কিনা এই ট্যুরের মেইন attraction, সেটা থেনজল টুরিস্ট লজ থেকে ১০-১২ কিমির মধ্যে, বড়ো জোর আধা ঘন্টার পথ I আর সকালে ফ্রেশও থাকা যাবে I অনেকেই লুঙলেই যায়, তেমন কিছু নেই, ফালতু দূরত্ব, কিমি, খরচা বাড়িয়ে লাভ নেই I আপনি শুধু রেইক, থেনজলের সাথে চামফাই (Champhai)ঘুরে নিতে পারেন I তাহলে মোটামুটি আপনার মিজোরামের বেস্ট প্লেস গুলো ঘোরা হয়ে যাবে I চামফাই আইজল থেকে ১৮০ কিমি দূরে অবস্থিত এবং এটিই মিজোরামের উচ্চতম জেলা , নতুন রাস্তা তৈরী হচ্ছেI সাইতুয়ালের কাছে তাম ডিল লেক, ইন্দো-মায়ানমার সীমান্তে রিহ ডিল লেক ঘুরে নিতে পারেন I এই রিহ ডিল মিজোরামের, কিন্তু মায়ানমারে ঢুকতে হবে যেতে গেলে I আশা করা যায় আগামী বছরে রেডি হয়ে যাবে I চামফাই গেলে আমার Itinerary র সাথে আরো ২ রাত অ্যাড করে নেবেন I
আমার কাছে আজকের (১০.১০.২০২২) দুটো জলপ্রপাত ভানটাওয়াং ফলস (Vantawng Falls), বিশেষ করে তুইরিহিআও ফলস (Tuirihiau Falls) মেইন আগ্রহ ছিল I কেন ছিল পরে বলছি I মিজোরামের শৈলশহর থেনজলের বাঁশের জঙ্গলে রয়েছে প্রায় সাড়ে সাতশো পঞ্চাশ ফিট উঁচু একটি জলপ্রপাত। তার নাম ভানতাওয়াং (Vantawng Waterfalls )।এটি মিজোরামের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত, এক পাহাড়ের মাথা থেকে দেখছি আরেক পাহাড় থেকে নেমে আসা জলপ্রপাত, দূর থেকেও বোঝা যাচ্ছে তার দাপট। মেইন রাস্তা থেকে এঁকে বেঁকে অলমোস্ট ওয়ান ওয়ে সরু ঢালাই রাস্তা দিয়ে ১ কিমি পথ, উল্টো দিক থেকে গাড়ী এলে এরা কীভাবে সাইড দেয় জানি না! মিজোরাম সরকার ফলসের ভিউ দেখার জন্য একটি দোতলা ভিউ পয়েন্ট বানিয়ে দিয়েছে I ভানতাওয়াং জলপ্রপাত টি আরে বহরে অনেকটাই চেরাপুঁজির নোকালিকাই ফলসের মতো I
ভানতাওয়াং ফলস থেকে ২ কিমি দূরে আছে আরেকটি জলপ্রপাত-তুইরিহিয়াউ। এটি আমার কাছে বেস্ট I এটি এমনই এক জলপ্রপাত যেটার ছবি সামনের দিক এবং জলপ্রপাতের পেছনে গুহা থেকে ছবি নেওয়া যায় I তুইরিহিয়াও ভেন্টাং-এর তুলনায় অনেক ছোট, কিন্তু একেবারে পাশে বসে দেখা যায়- এ যেন অনেক আপন। রবিবার কিন্তু তুইরিহিয়াও বন্ধ থাকে I এন্ট্রি ফি মাথা পিছু ৩০ টাকা দিয়ে, গোটা ৫০ সিঁড়ি ভেঙে নীচে নামলাম, নবীনকেও নিয়ে গেলাম যাতে ও ছবি তুলে দেয় I জলপ্রপাতের আওয়াজ এবং জলের ছাট ইলশেগুঁড়ি র মতো ক্যামেরা, মোবাইলের লেন্স, এমনকি জামা কাপড় ও ভিজিয়ে দিচ্ছিলো I একদম নিরিবিলি জলপ্রপাতের সামনে আমার ফ্যামিলি এবং নবীন কেবল, সৌন্দর্য বর্ণনা করা যাবে না,জায়গাটি কিন্তু পিচ্ছিল I এখন সব চেয়ে কঠিন কাজ হলো জলপ্রপাতের পেছনে যাওয়া , এবং সেটা করতে গেলে জলপ্রপাতের সামনে দিয়েই ঢুকতে হবে, জলপ্রপাতের একদম বাম দিকের গা ঘেঁষে সুরুৎ করে ঢুকে যেতে হবে I বৃষ্টি হয়েছে বলে জল খুব চওড়া হয়ে পড়ছে, না হলে অন্য সময় আরামসে ভেতরে যাওয়া যায় I নবীন নিরুন্তর সাহস জোগাচ্ছিলো হাত ধরে ভেতরে নিয়ে যাবে বলে I শেষে জুতো খুলে খালি পায়ে নবীনের হাত ধরে ফলসের সামনে দিয়ে গুহায় ঢুকলাম! কাছ থেকে সে কি জলের গর্জন! তবে হৃৎপিন্ডের দরাম দরাম সেটা অন্য কেউ অনুভব না করলেও আমি করেছি 😊ভেতর থেকে ফলসের জলপড়া লেন্স বন্দি করলাম, দু একটি ভিডিও নিলাম I ড্রাইভার নবীনের জন্য আমি ফলসের পেছনে যেতে পারলাম এটা স্বীকার করতেই হবে I আবার উঠে এলাম সিঁড়ি বেয়ে উপরে, বাচ্চারা স্লাইডে আনন্দ করতে থাকলো I এর কাছেই আরো দুটো স্পট দিলপুই পার্ক, গল্ফ কোর্স এরা নিয়ে যায়, কিন্তু আইজলের বড়োবাজার এ কিছু শপিং করার ইচ্ছে ছিল, ঐ দুটি স্কিপ করলাম, নবীনও বলছিলো খুব একটা ভালো নয় I থেনজল থেকে আইজলে আসতে দোকানদার বিহীন বেশ কয়েকটা দোকান দেখলাম I জিনিস রাখা আছে, তার গায়ে দাম, আর একটা কৌটো I ৫০-১০০ টাকাও তাতে আছে I আপনি টাকা ঐ কৌটায় রেখে আইটেম কিনবেন! আসার পথে মুইফাং ভিউপয়েন্টে ক্লিয়ার ভিউ পেলাম, পুরো মুইফাং টলাং এখান থেকে দৃশ্যমান I সব শেষে ফালকন (Falkawn) যেখানে Typical Mizo Village র মডেল রয়েছে, এন্ট্রি ফি লাগে, ভেতরে ৫-৬ টি কুটির করা আছে I কুটিরের মধ্যে মিজো উপজাতিরা ঘরে কি কি রাখে সেগুলো ছিল I আইজলের বড়োবাজার আসতে প্রায় বিকেল ৩:৩০ বেজে গেল I আইজলের যেখানে সেখানে আপনি পার্কিং করতে পারবেন না, শুধু মাত্র Designated জায়গাতেই পার্কিং সম্ভব I মার্কেটে থাইল্যান্ড, চীন, মায়ানমারের প্রোডাক্ট প্রচুর পাওয়া যায় I কিন্তু দাম ও বেশী I ভিড় বেশী সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে ( দেখে যদিও মনে হবে না ) মড়া সাহেবের কোট যেমন আমরা বলি 😃 I চানমারি, জারকট, বড়োবাজার সবই মার্কেট I মিজোরাম ড্রাই স্টেট, কিন্তু গোপনে চলে সব কিছু, চিন মায়ানমারের সস্তা সিগারেট বাজার ছেয়ে ফেলেছে I খাবারের দাম হিল স্টেশনে যেমন হয়, তেমনি বা তার চেয়েও সস্তা I গাড়ী ভাড়াটা এখানে একটু বেশী বলে মনে হলো , অবশেষে চালতল্যাং টুরিস্ট লজে যখন পৌছালাম সন্ধ্যা নেমে এসেছে I
১১ ই অক্টোবর, আজ বাড়ী ফেরার পালা, মন সকাল থেকেই খারাপ I মিজোরাম যে এতটা ভালো লাগবে, কখনো ভাবিনি, আসলে যা যা এক্সপেক্ট করেছিলাম, সেগুলো সব মিলে গেছে বা তার চেয়েও বেশী পেয়েছি I আসার পথে হানিফকে বললাম ড্রাগন ফ্রুট কিনবো , মাত্র ১৫০ টাকা কিলো I সব চেয়ে বড়ো কথা ঐগুলো একদম ফ্রেশ ছিল I রাস্তার ধারে একটা ছোট ফলস পড়লো, হানিফ আবার কিছু ছবি তুলে দিল I একরাশ ভালোলাগার স্মৃতি নিয়ে যখন লেংপুই এয়ারপোর্ট থেকে এয়ার ইন্ডিয়া ডানা মেললো কলকাতার উদ্দেশ্যে, দূরের নীল লুসাই পাহাড় আবার আসার বার্তা যেন অগ্রিম দিয়ে রাখলো I
মিজোরাম ঘোরার একটি আদর্শ Itinerary শেয়ার করছি :
ডে ১: কলকাতা -আইজল ( রাত: চালতল্যাং টুরিস্ট লজ, আইজল )
ডে ২: রেইক টলাং, সোলোমন টেম্পল, KV Paradise,Durtlang View Point / Falkland View Point, Barabazaar ( রাত : চালতল্যাং টুরিস্ট লজ, আইজল )
ডে ৩: আইজল -থেনজল, পথে ভিসিট Falkawn, মুইফাং, সিয়ালসুক টলাং ( রাত : থেনজল টুরিস্ট লজ, থেনজল )
ডে ৪ : থেনজল - ভানতাওয়াং, তুইরিহিয়াও ফলস, দিলপুই, গল্ফ কোর্স I রিটার্ন আইজল (রাত : চালতল্যাং টুরিস্ট লজ, আইজল )
ডে ৫ : আইজল - চামফাই , পথে ভিসিট Tamdil Lake ( রাত : চামফাই টুরিস্ট লজ, চামফাই )
ডে ৬ : ভিসিট ইন্দো-মায়ানমার বর্ডার, রিহ ডিল লেক (মায়ানমার )... রিটার্ন আইজল ( রাত : চালতল্যাং টুরিস্ট লজ, আইজল )
ডে ৭: আইজল -কলকাতা
এবার আপনার বাজেট,সময় হিসেবে নিজের মতো করে বানিয়ে নিন I
অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন আমাদের ৪ রাত ৫ দিনের এয়ারপোর্ট টু এয়ারপোর্ট প্যাকেজ খরচা কত হয়েছে I আমি, আমার স্ত্রী, দুই ছেলে বয়স ১১ বছর এবং ৫ বছর গিয়েছিলাম I
১.ফ্লাইট ফেয়ার (এয়ার ইন্ডিয়া) : ২৬,০০০/- (৪ জন রিটার্ন )
২. গভঃ টুরিস্ট লজ ৪ রাত : ৪,০০০/-
৩. এন্ট্রি ও পার্কিং ফী : ৪০০/-
৪. মিল : ৪৬০০/-
৫. এয়ারপোর্ট টু এয়ারপোর্ট (হানিফ) Dezire ZXI : ১৭,০০০/-
টোটাল : ৫২,০০০/- টাকা I
গাড়ী যদি Wagon R নিতাম, হানিফের ভাড়া হতো ১৫০০০/- টাকা I Innova র মতো ৭ সিটের গাড়ী নিলে খরচা আরো বাড়বে I

মিজোরাম পর্যটন দফতর নিজের রাজ্যের সৌন্দর্য আর আকর্ষণ পর্যটকদের কাছে সেইভাবে মেলে ধরতে পারেন নি । আমাদেরও কিছু Misconception আছে I আপনারা মিজোরাম আসুন I সত্যিই ভালো লাগবে I অন্যান্য হিল স্টেশনে ভিড় এখানে পাবেন না, দু দন্ড যদি সিটি লাইফের Hustle Bustle থেকে নিরিবিলি প্রকৃতির কোলে আশ্রয় নিতে চান , মিজোরাম আপনার জন্য অপেক্ষা করছে I ইংরেজ কবি কিটস বলেছেন "A thing of beauty is a joy forever" I বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা আমরা প্রচুর "Joy" নিয়ে ফিরেছিIআজ রবিবার, তারিখ অক্টোবরের ৯, সকাল সকাল ব্রেকফাস্ট করে নিলাম ৮ টার মধ্যে I আজ আমাদের ডেস্টিনেশন ছিল থেনজল I আইজল থেকে থেনজলের দূরত্ব ৯২ কিমি, সময় লাগে প্রায় চার ঘন্টা, পথে সাইটসীন করতে করতে যাবো বলে ওটা প্রায় ৬ ঘন্টায় পরিণত হবে I হানিফ ফোন করে বললো ও আজ আসতে পারবে না, বদলে নতুন ড্রাইভার পাঠাচ্ছে I আসলে হানিফ রিয়েলি ব্যস্ত মানুষ, Wagon R, Dezire ZXI,Bolero,Toyota Innova চার খানা গাড়ীর মালিক এবং নিজে ড্রাইভিং করে I মিজোরামে কেউ বসে থাকে না, কিবা পুরুষ, কিবা নারী সকলেই কাজে ব্যস্ত I কাজের মধ্যে Gender Discrimination নেই, ঘরের বৌ দোকান চালাচ্ছে, পুরুষ মানুষ রান্না এবং ঘরের কাজ করছে, মিজোরামের ৯৯% দোকান দেখাশোনা করছে মহিলারা I সরকারের চেয়েও মিজোরামে চার্চের ক্ষমতা বেশী মনে হলো I রবিবারে মিজোরামে বন্ধ বা হরতাল হচ্ছে বলে মনে হবে I সমস্ত দোকান বন্ধ, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বন্ধ, রেস্টুরেন্ট বন্ধ, পার্ক, পর্যটনস্থল বন্ধ I রাস্তা

ফাঁকা I কেউ কেউ অবশ্য রবিবার দোকান খুলতে চেয়েছিলো, কিন্তু অধিকার পায় নি I সেদিন নতুন ড্রেস পরে চার্চে প্রার্থনা করাই মিজোদের দস্তুর I তা এহেন রবিবারে বেরিয়ে দেখলাম রাস্তায় ট্রাফিক প্রায় শূন্য I আজ আমাদের ড্রাইভার নবীন সিলওয়াল, ইয়ং নেপালি ড্রাইভার, হিন্দি বোঝে I প্রথম স্টপেজ হলে ফালকন (Falkawn)যা আইজল থেকে ঘন্টাখানেকের পথ I এখানে একটি টিপিকাল মিজো ভিলেজ মডেল করে রাখা আছে I নেমে দেখলাম যথারীতি বন্ধ! তার পরের স্টপেজ মাউবুয়াং এ Tropic Of Cancer ( কর্কটক্রান্তি রেখা ), ভূগোলের সেই ২৩.৫ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ, রাস্তার উপর দিয়ে মার্ক করা আছে, গ্লোব, পিলার বসিয়ে বেশ ছবি তোলার মতো ব্যবস্থা করেছেন মিজোরাম সরকার I কৃষ্ণনগর থেকে মায়াপুর যেতে গেলেও এই অক্ষরেখা মিলে যাবে I ছবি তুললাম বেশ কয়েকটা, এবার নবীন গাড়ী থামালো মিডাম খাম ভিউ পয়েন্টে , এটি সুমসুই তে অবস্থিত I ভিউটা চেরাপুঞ্জি যেতে গেলে যেমন লাগে ঠিক তেমন I আবার পথ চলা শুরু I যাবো মুইফাং (Hmuifang) মুইফাং মিজোরামের অন্যতম জনপ্রিয় পার্বত্য শহর। আইজল শহর মুইফাং থেকে দূরত্ব ৫০কিমি। ঘন্টা দুয়েকের পথ I এখানে Govt ট্যুরিস্ট লজ আছে I খুব সুন্দর ঘর গুলো I ভাবলাম লাঞ্চ এখান থেকে করে নেবো! বিধি বাম, রবিবার!! এখানে লাঞ্চ খেতে চাইলে অনেক আগে থেকে অর্ডার দিতে হয়, ধরুন সকালে বলে দিতে হবে লাঞ্চের কথা I মুইফাং এ কি পাবেন? সবুজ গালিচায় মোড়া প্রশস্ত উঁচুনিচু প্রান্তর। পাহাড় দিয়ে ঘেরা, পাহাড়ের অরণ্যের অনেকাংশেই মানুষের পদচিহ্ন পড়েনি এখনও।একটা পার্ক আছে, যদিও রবিবার বন্ধ ছিল I খোলা থাকলেও যেতাম না, কারণ ট্যুরিস্ট লজের সামনের ভিউ পার্কের চেয়ে ভালো I ট্যুরিস্ট রিসোর্ট থেকে ১ কিমি এগিয়ে ডান দিকে একটা ভিউ পয়েন্ট রয়েছে I এখান থেকে মুইফাং টলাং দেখা যায় I মিজো ভাষায় টলাং কথার অর্থ পাহাড় I কিন্তু ভিউ পয়েন্টে পৌঁছে মন খারাপ হয়ে গেল I মেঘ কুয়াশায় ঢেকে সব সাদা হয়ে গেছে I আমরা অবশ্য আগামীদিন এই পথেই ফিরবো, অতোএব আরেকটা চান্স থাকবে I এর পর গেলাম সিয়ালসুক, প্রকৃতি দেবী মুখ তুলে চেয়েছেন এবার I রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া, সূর্যকিরণে উদ্ভাসিত বা ঝলমলে হয়ে আছে পুরো সিয়ালসুক টলং I সিয়ালসুক (Sialsuk) মিজোরামের একটি দর্শনীয় স্থান I গাড়ী নিয়ে ওঠা যায় সিয়ালসুক পাহাড়ে অনেকটাই I এন্ট্রি ফী দিতে হবে মাথা পিছু চল্লিশ টাকা I সিয়ালসুক পাহাড়, অনেকটাই দার্জিলিং র গোপালধারা টি গার্ডেনের গোল গোল পাহাড়ের মতো I এই রকম গোটা পাঁচেক পাহাড় আছে I আমরা মিডিয়াম দুটোতে উঠলাম,যত উঁচুতে উঠবেন ততো বেটার ভিউ, সিয়ালসুক টলাং থেকে ৩৬০ ডিগ্রী ভিউ পাওয়া যায় I চারদিকে পাহাড়, সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস, নীচে সবুজ প্রশস্ত ঘাসের উপর গরু বিচরণ করছে , ভিউ টা বিদেশ বিদেশে বললে অতিরঞ্জিত হয় না! পাহাড়ের উপর দোলনা, বসার বেঞ্চ ছিল, এবং বড়ো বড়ো Cross ছিল I জায়গাটা সত্যিই সুন্দর, এখানে ঘন্টাখানেক এখানে নিমেষের মধ্যে কেটে যাবে I দেখতে দেখতে দুপুর ২ টা বেজে গেছে, তখনো লাঞ্চ হয় নি, বাচ্চারা ঝামেলা করছে, নবীনকে বললাম আজ আর সাইট সীন করবো না, একদম থেনজল টুরিস্ট লজ নিয়ে চলো I সিয়ালসুক থেকে থেনজল ২৫ কিমি রাস্তা I এই ট্যুরিস্ট লজ টা চালতল্যাং র মতো বড়ো নয় I গোটা ৬-৭ কটেজ আছে, ভাড়া ১০০০ টাকা, ডিলাক্স রুম ১২০০ টাকা, ডিলাক্স রুম নিলে কংক্রিটের ঘর পাবেন, রেনোভেশন চলছে I যথারীতি দুপুরের খাবার জুটলো না, তবে থেনজল টুরিস্ট লজের সামনে অসমের এক ভদ্রলোকের রেস্টুরেন্ট আছে (বাংলা জানেন বা বোঝেন ) , নবীন সেখানে নিয়ে গেল, যথেষ্ট ভালো খাবার পেলাম I বলে রাখি মিজোরামে আউট স্টেশনে গাড়ী নিয়ে গেলে, গাড়ীর নাইট চার্জ ছাড়াও ড্রাইভারের Dormitory তে থাকার খরচা ( ২০০ টাকা ), ড্রাইভারের খাওয়া দাওয়া পার্টি কে বহন করতে হয় I আপনি যা খাবেন, ড্রাইভারকেও দেবেন, মাংস ভাত বা ডিম ভাত, বা সবজি ভাত একই রেট ছিল থেনজলের ঐ অসমীয়া ভদ্রলোকের রেস্টুরেন্টে এবং এমনকি পরের দিন সিয়ালসুকের একটি রেস্টুরেন্টেও!রাতের ডিনার টা থেনজল টুরিস্ট লজেই করেছিলাম I থেনজলকে বেস কেন করেছিলাম? কারণ দুটি ফলস, যেটা কিনা এই ট্যুরের মেইন attraction, সেটা থেনজল টুরিস্ট লজ থেকে ১০-১২ কিমির মধ্যে, বড়ো জোর আধা ঘন্টার পথ I আর সকালে ফ্রেশও থাকা যাবে I অনেকেই লুঙলেই যায়, তেমন কিছু নেই, ফালতু দূরত্ব, কিমি, খরচা বাড়িয়ে লাভ নেই I আপনি শুধু রেইক, থেনজলের সাথে চামফাই (Champhai)ঘুরে নিতে পারেন I তাহলে মোটামুটি আপনার মিজোরামের বেস্ট প্লেস গুলো ঘোরা হয়ে যাবে I চামফাই আইজল থেকে ১৮০ কিমি দূরে অবস্থিত এবং এটিই মিজোরামের উচ্চতম জেলা , নতুন রাস্তা তৈরী হচ্ছেI সাইতুয়ালের কাছে তাম ডিল লেক, ইন্দো-মায়ানমার সীমান্তে রিহ ডিল লেক ঘুরে নিতে পারেন I এই রিহ ডিল মিজোরামের, কিন্তু মায়ানমারে ঢুকতে হবে যেতে গেলে I আশা করা যায় আগামী বছরে রেডি হয়ে যাবে I চামফাই গেলে আমার Itinerary র সাথে আরো ২ রাত অ্যাড করে নেবেন I
আমার কাছে আজকের (১০.১০.২০২২) দুটো জলপ্রপাত ভানটাওয়াং ফলস (Vantawng Falls), বিশেষ করে তুইরিহিআও ফলস (Tuirihiau Falls) মেইন আগ্রহ ছিল I কেন ছিল পরে বলছি I মিজোরামের শৈলশহর থেনজলের বাঁশের জঙ্গলে রয়েছে প্রায় সাড়ে সাতশো পঞ্চাশ ফিট উঁচু একটি জলপ্রপাত। তার নাম ভানতাওয়াং (Vantawng Waterfalls )।এটি মিজোরামের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত, এক পাহাড়ের মাথা থেকে দেখছি আরেক পাহাড় থেকে নেমে আসা জলপ্রপাত, দূর থেকেও বোঝা যাচ্ছে তার দাপট। মেইন রাস্তা থেকে এঁকে বেঁকে অলমোস্ট ওয়ান ওয়ে সরু ঢালাই রাস্তা দিয়ে ১ কিমি পথ, উল্টো দিক থেকে গাড়ী এলে এরা কীভাবে সাইড দেয় জানি না! মিজোরাম সরকার ফলসের ভিউ দেখার জন্য একটি দোতলা ভিউ পয়েন্ট বানিয়ে দিয়েছে I ভানতাওয়াং জলপ্রপাত টি আরে বহরে অনেকটাই চেরাপুঁজির নোকালিকাই ফলসের মতো I
ভানতাওয়াং ফলস থেকে ২ কিমি দূরে আছে আরেকটি জলপ্রপাত-তুইরিহিয়াউ। এটি আমার কাছে বেস্ট I এটি এমনই এক জলপ্রপাত যেটার ছবি সামনের দিক এবং জলপ্রপাতের পেছনে গুহা থেকে ছবি নেওয়া যায় I তুইরিহিয়াও ভেন্টাং-এর তুলনায় অনেক ছোট, কিন্তু একেবারে পাশে বসে দেখা যায়- এ যেন অনেক আপন। রবিবার কিন্তু তুইরিহিয়াও বন্ধ থাকে I এন্ট্রি ফি মাথা পিছু ৩০ টাকা দিয়ে, গোটা ৫০ সিঁড়ি ভেঙে নীচে নামলাম, নবীনকেও নিয়ে গেলাম যাতে ও ছবি তুলে দেয় I জলপ্রপাতের আওয়াজ এবং জলের ছাট ইলশেগুঁড়ি র মতো ক্যামেরা, মোবাইলের লেন্স, এমনকি জামা কাপড় ও ভিজিয়ে দিচ্ছিলো I একদম নিরিবিলি জলপ্রপাতের সামনে আমার ফ্যামিলি এবং নবীন কেবল, সৌন্দর্য বর্ণনা করা যাবে না,জায়গাটি কিন্তু পিচ্ছিল I এখন সব চেয়ে কঠিন কাজ হলো জলপ্রপাতের পেছনে যাওয়া , এবং সেটা করতে গেলে জলপ্রপাতের সামনে দিয়েই ঢুকতে হবে, জলপ্রপাতের একদম বাম দিকের গা ঘেঁষে সুরুৎ করে ঢুকে যেতে হবে I বৃষ্টি হয়েছে বলে জল খুব চওড়া হয়ে পড়ছে, না হলে অন্য সময় আরামসে ভেতরে যাওয়া যায় I নবীন নিরুন্তর সাহস জোগাচ্ছিলো হাত ধরে ভেতরে নিয়ে যাবে বলে I শেষে জুতো খুলে খালি পায়ে নবীনের হাত ধরে ফলসের সামনে দিয়ে গুহায় ঢুকলাম! কাছ থেকে সে কি জলের গর্জন! তবে হৃৎপিন্ডের দরাম দরাম সেটা অন্য কেউ অনুভব না করলেও আমি করেছি 😊ভেতর থেকে ফলসের জলপড়া লেন্স বন্দি করলাম, দু একটি ভিডিও নিলাম I ড্রাইভার নবীনের জন্য আমি ফলসের পেছনে যেতে পারলাম এটা স্বীকার করতেই হবে I আবার উঠে এলাম সিঁড়ি বেয়ে উপরে, বাচ্চারা স্লাইডে আনন্দ করতে থাকলো I এর কাছেই আরো দুটো স্পট দিলপুই পার্ক, গল্ফ কোর্স এরা নিয়ে যায়, কিন্তু আইজলের বড়োবাজার এ কিছু শপিং করার ইচ্ছে ছিল, ঐ দুটি স্কিপ করলাম, নবীনও বলছিলো খুব একটা ভালো নয় I থেনজল থেকে আইজলে আসতে দোকানদার বিহীন বেশ কয়েকটা দোকান দেখলাম I জিনিস রাখা আছে, তার গায়ে দাম, আর একটা কৌটো I ৫০-১০০ টাকাও তাতে আছে I আপনি টাকা ঐ কৌটায় রেখে আইটেম কিনবেন! আসার পথে মুইফাং ভিউপয়েন্টে ক্লিয়ার ভিউ পেলাম, পুরো মুইফাং টলাং এখান থেকে দৃশ্যমান I সব শেষে ফালকন (Falkawn) যেখানে Typical Mizo Village র মডেল রয়েছে, এন্ট্রি ফি লাগে, ভেতরে ৫-৬ টি কুটির করা আছে I কুটিরের মধ্যে মিজো উপজাতিরা ঘরে কি কি রাখে সেগুলো ছিল I আইজলের বড়োবাজার আসতে প্রায় বিকেল ৩:৩০ বেজে গেল I আইজলের যেখানে সেখানে আপনি পার্কিং করতে পারবেন না, শুধু মাত্র Designated জায়গাতেই পার্কিং সম্ভব I মার্কেটে থাইল্যান্ড, চীন, মায়ানমারের প্রোডাক্ট প্রচুর পাওয়া যায় I কিন্তু দাম ও বেশী I ভিড় বেশী সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে ( দেখে যদিও মনে হবে না ) মড়া সাহেবের কোট যেমন আমরা বলি 😃 I চানমারি, জারকট, বড়োবাজার সবই মার্কেট I মিজোরাম ড্রাই স্টেট, কিন্তু গোপনে চলে সব কিছু, চিন মায়ানমারের সস্তা সিগারেট বাজার ছেয়ে ফেলেছে I খাবারের দাম হিল স্টেশনে যেমন হয়, তেমনি বা তার চেয়েও সস্তা I গাড়ী ভাড়াটা এখানে একটু বেশী বলে মনে হলো , অবশেষে চালতল্যাং টুরিস্ট লজে যখন পৌছালাম সন্ধ্যা নেমে এসেছে I
১১ ই অক্টোবর, আজ বাড়ী ফেরার পালা, মন সকাল থেকেই খারাপ I মিজোরাম যে এতটা ভালো লাগবে, কখনো ভাবিনি, আসলে যা যা এক্সপেক্ট করেছিলাম, সেগুলো সব মিলে গেছে বা তার চেয়েও বেশী পেয়েছি I আসার পথে হানিফকে বললাম ড্রাগন ফ্রুট কিনবো , মাত্র ১৫০ টাকা কিলো I সব চেয়ে বড়ো কথা ঐগুলো একদম ফ্রেশ ছিল I রাস্তার ধারে একটা ছোট ফলস পড়লো, হানিফ আবার কিছু ছবি তুলে দিল I একরাশ ভালোলাগার স্মৃতি নিয়ে যখন লেংপুই এয়ারপোর্ট থেকে এয়ার ইন্ডিয়া ডানা মেললো কলকাতার উদ্দেশ্যে, দূরের নীল লুসাই পাহাড় আবার আসার বার্তা যেন অগ্রিম দিয়ে রাখলো I
মিজোরাম ঘোরার একটি আদর্শ Itinerary শেয়ার করছি :
ডে ১: কলকাতা -আইজল ( রাত: চালতল্যাং টুরিস্ট লজ, আইজল )
ডে ২: রেইক টলাং, সোলোমন টেম্পল, KV Paradise,Durtlang View Point / Falkland View Point, Barabazaar ( রাত : চালতল্যাং টুরিস্ট লজ, আইজল )
ডে ৩: আইজল -থেনজল, পথে ভিসিট Falkawn, মুইফাং, সিয়ালসুক টলাং ( রাত : থেনজল টুরিস্ট লজ, থেনজল )
ডে ৪ : থেনজল - ভানতাওয়াং, তুইরিহিয়াও ফলস, দিলপুই, গল্ফ কোর্স I রিটার্ন আইজল (রাত : চালতল্যাং টুরিস্ট লজ, আইজল )
ডে ৫ : আইজল - চামফাই , পথে ভিসিট Tamdil Lake ( রাত : চামফাই টুরিস্ট লজ, চামফাই )
ডে ৬ : ভিসিট ইন্দো-মায়ানমার বর্ডার, রিহ ডিল লেক (মায়ানমার )... রিটার্ন আইজল ( রাত : চালতল্যাং টুরিস্ট লজ, আইজল )
ডে ৭: আইজল -কলকাতা
এবার আপনার বাজেট,সময় হিসেবে নিজের মতো করে বানিয়ে নিন I
অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন আমাদের ৪ রাত ৫ দিনের এয়ারপোর্ট টু এয়ারপোর্ট প্যাকেজ খরচা কত হয়েছে I আমি, আমার স্ত্রী, দুই ছেলে বয়স ১১ বছর এবং ৫ বছর গিয়েছিলাম I
১.ফ্লাইট ফেয়ার (এয়ার ইন্ডিয়া) : ২৬,০০০/- (৪ জন রিটার্ন )
২. গভঃ টুরিস্ট লজ ৪ রাত : ৪,০০০/-
৩. এন্ট্রি ও পার্কিং ফী : ৪০০/-
৪. মিল : ৪৬০০/-
৫. এয়ারপোর্ট টু এয়ারপোর্ট (হানিফ) Dezire ZXI : ১৭,০০০/-
টোটাল : ৫২,০০০/- টাকা I
গাড়ী যদি Wagon R নিতাম, হানিফের ভাড়া হতো ১৫০০০/- টাকা I Innova র মতো ৭ সিটের গাড়ী নিলে খরচা আরো বাড়বে I
মিজোরাম পর্যটন দফতর নিজের রাজ্যের সৌন্দর্য আর আকর্ষণ পর্যটকদের কাছে সেইভাবে মেলে ধরতে পারেন নি । আমাদেরও কিছু Misconception আছে I আপনারা মিজোরাম আসুন I সত্যিই ভালো লাগবে I অন্যান্য হিল স্টেশনে ভিড় এখানে পাবেন না, দু দন্ড যদি সিটি লাইফের Hustle Bustle থেকে নিরিবিলি প্রকৃতির কোলে আশ্রয় নিতে চান , মিজোরাম আপনার জন্য অপেক্ষা করছে I ইংরেজ কবি কিটস বলেছেন "A thing of beauty is a joy forever" I বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা আমরা প্রচুর "Joy" নিয়ে ফিরেছিI

No comments

Powered by Blogger.