Header Ads

মিশরীয় ২০ পাউন্ড ব্যাংকনোট ও রানী ক্লিওপেট্রা




মিশরের প্রত্যেকটি নোটের সম্মুখে আছে মসজিদের ছবি এবং পেছনে আছে মিশরের প্রাচীন ঐতিহ্য বহনকারী ফারাও,পিরামিড ও অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থানসমূহ Iমিশরের নতুন পলিমার / প্লাস্টিক ২০ পাউন্ড যেটি ২০২২ সালে ২০ ই জুন প্রকাশিত হয়েছে, সেই নোটের সম্মুখে আছে মিশরের রাজধানী কায়ারোর মুহাম্মদ আলী মসজিদ I ১৮৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই অটোমান মসজিদটি উনিশ শতকের প্রথমঅর্ধ পর্যন্ত দুনিয়ার সবচেয়ে বড়ো মসজিদ হিসেবে পরিগনিত হতো, এই মসজিদের সবচেয়ে বড়ো মিনারদুটির উচ্চতা ৮৪ মিটার যা মিশরের মধ্যে উচ্চতম এবং এই মসজিদটি কায়রোর একটি ল্যান্ডমার্ক এবং টুরিস্টদের কাছে জনপ্রিয় I নোটের পেছনে আছে পিরামিড, ফারাওদের যুদ্ধের রথ ও মিশরীয় যোদ্ধা যা প্রাচীন মিশরের শক্তি এবং বিশালতাকে তুলে ধরছে এবং রানী ক্লিওপেট্রার মর্মর মূর্তি I


এই ক্লিওপেট্রা কে?? প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ১৯৭৬ সালের ২০ পাউন্ড নোটেও রানী ক্লিওপেট্রার ছবি ছিল I
যার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন খোদ জুলিয়াস সিজার! রহস্যময়ী ক্লিওপেট্রা যেন মর্তের 'ভেনাস'
‘ক্লিওপেট্রা’ যার সৌন্দর্য বর্ণনায় কবিরা কোথাও কার্পণ্য করেননি।শেক্সপিয়ার থেকে শুরু করে অনেক লেখক ক্লিওপেট্রার সৌন্দর্যকে বর্ণনা করেছেন অতুলনীয় রূপে। টিকোলো নাক, মাঝারি মুখ, ঠোঁট দুটো যেন পদ্মফুলের পাপড়ি। সেই প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত যত রূপসী নারীর কথা ইতিহাসের পাতায় উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে মিশরের সৌন্দর্যের রানী ক্লিওপেট্রার নাম জ্বলজ্বল করছে। শুধু সৌন্দর্য নয়, বুদ্ধিমত্তায়ও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।বিশেষ করে রোমান লেখক প্লুটার্কের লেখায় যেভাবে আঁকা হয়েছে ক্লিওপেট্রাকে তা এমনই অতুলনীয় এক নারীর কথা তুলে ধরে। হ্যাঁ , ক্লিওপেট্রা। সত্যিই কি মিশরের এই রানি ছিলেন ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ সুন্দরী? নাকি তাঁর নিছক শারীরিক সৌন্দর্যকে ছাপিয়ে বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্বের মিশেলে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অনন্যা? তাঁর মৃত্যুর মতো এই প্রশ্নও অমীমাংসিত। এত যুগ পেরিয়ে এসেও রহস্যে মোড়া ক্লিওপেট্রার (Cleopatra) জীবন।


ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক এরিক গ্রুয়েন তাঁর ‘ক্লিওপেট্রা: এ স্ফিংকস রিভিজিটেড’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘ক্লিওপেট্রা কোনও যৌন শিকারী ছিলেন না। সিজারের কোনও খেলনা বিশেষও ছিলেন না। তিনি ছিলেন ইজিপ্ট, সাইরিন ও সাইপ্রাসের রানি। গৌরবময় টলেমি বংশের প্রতিনিধি। একজন আবেগপ্রবণ কিন্তু খুব চতুর মহিলা, যিনি রোমকে চালনা করতেন।’ প্রথম থেকেই তিনি নিজেকে মিশরের কোনও দেবীর জাতিস্মর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এরপর যত সময় গড়িয়েছে ততই ক্লিওপেট্রাকে ঘিরে জন্ম নিয়েছে নানা মিথ।


বাবা দ্বাদশ টলেমি ছিলেন তিনশো বছরের টলেমি বংশের এক গুরুত্বপূর্ণ শাসক। কিন্তু ‘বন্ধু’ রোমের উত্থানের পরে ধীরে ধীরে তাঁরা গরিমা হারাচ্ছিলেন। নিয়মিত শক্তিশালী রোমের চাপে ক্ষমতা ধরে রাখাই হয়ে উঠছিল বড় চ্যালেঞ্জের। শেষ পর্যন্ত ৫৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমানদের সাহায্যেই ক্লিওপেট্রার বাবা ক্ষমতা ফিরে পান। কিন্তু এবার তিনি একা নন, তাঁর সপ্তদশী কন্যাও বসেন সিংহাসনে। রানী ক্লিওপেট্রা থিয়া ছিলেন প্রাচীন মিশরের শেষ ফারাও। তার জন্মের আগে আরও ছয়জন ক্লিওপেট্রা ছিলেন, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তার মতো জায়গা করে নিতে পারেননি কেউই। ক্লিওপেট্রা নামের অর্থ হলো ‘গ্লোরি অফ দ্য ফাদার’। খ্রিস্টপূর্ব ৬৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন ক্লিওপেট্রা। তার পূর্বপুরুষ প্রথম টলেমি ছিলেন আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেটের অন্যতম সেনাপতি। যিনি আলেক্সজান্দ্রিয়ার বিখ্যাত লাইব্রেরি তৈরি করেছিলেন।বছর চারেকের মধ্যেই মৃত্যু হয় দ্বাদশ টলেমির। এবার রাজসিংহাসন নিয়ে ক্লিওপেট্রার সঙ্গে সংঘাত বাঁধে তাঁর ভাই ত্রয়োদশ টলেমির। ক্লিওপেট্রাকে রাজক্ষমতা দিতে তীব্র আপত্তি ছিল তাঁর ভাই ও তাঁর পরামর্শদাতাদের। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায়, রাজপ্রাসাদ ছেড়ে পালাতে হয় ক্লিওপেট্রাকে। শেষ পর্যন্ত জুলিয়াস সিজারের সাহায্যে নিজের সিংহাসন ফেরত পান ক্লিওপেট্রা।


বয়সে ক্লিওপেট্রার থেকে তিরিশ বছর বড় ছিলেন সিজার। জুলিয়াস সিজারের ইজিপ্টে আসা ছিল নিতান্তই এক দুর্ঘটনা। রোমান গৃহযুদ্ধে রোমের সেনাপতি পম্পেইয়ের সঙ্গে তখন তাঁর লড়াই চলছে। হারতে হারতে ইজিপ্টে আসেন পম্পেই। উদ্দেশ্য ত্রয়োদশ টলেমির কাছে আশ্রয় পাওয়া। কিন্তু টলেমি বুঝেছিলেন পম্পেইয়ের থেকে সিজার অনেক বেশি ‘দামি’। তাই সোজা তাঁর মাথা কেটে উপহার দিলেন অল্প সেনা নিয়ে আলেকজান্দ্রিয়ায় পা রাখা সিজারকে। কিন্তু সিজার উপহার পেয়ে গললেন না। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন ভাইবোনের বিরোধ মেটানোর। আসলে শস্যের জন্য ইজিপ্টের উপর নির্ভরশীল রোমান সাম্রাজ্যের কাছে সেখানকার শাসনক্ষমতার স্থিতিশীল থাকা খুব প্রয়োজনীয় ছিল।
এদিকে টলেমি চাইছিলেন সিজারের হাতেই রাজক্ষমতা তুলে দিতে। যে করে হোক ক্লিওপেট্রাকে সম্রাটের থেকে দূরে রাখাই তাঁর লক্ষ্য। কিন্তু নিজের ব্যক্তিত্বের প্রতি চরম আত্মবিশ্বাসী ক্লিওপেট্রা জানতেন, তিনি যদি একবার সিজারের সামনে এসে দাঁড়ান তাহলেই সব কিছু তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তাই হল। একটি বিখ্যাত মিথ রয়েছে, ক্লিওপেট্রা নাকি একটি কার্পেটের মধ্যে (মতান্তরে কম্বল) লুকিয়ে সটান হাজির হন সিজারের সামনে।
তারপর? ইজিপ্ট বিশারদ জয়েস টাইলডেসলির বই ‘ক্লিওপেট্রা, লাস্ট কুইন অফ ইজিপ্ট’ থেকে পাওয়া যায়, সেই রাতে ত্রয়োদশ টলেমি মহা আনন্দে ঘুমোতে গেলেন। যাক, দিদি অনেক দূরে। সিজার হাতের মুঠোয়। আর কী চাই? কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠতেই জানতে পারলেন ক্লিওপেট্রা প্রাসাদে প্রবেশ করেছেন। এখানেই শেষ নয়। ততক্ষণে সিজার ক্লিওপেট্রার রীতিমতো ‘ঘনিষ্ঠ’ হয়ে গিয়েছেন। এর ন’মাস পরে ক্লিওপেট্রার গর্ভে জন্ম নেয় তাঁর ও সিজারের সন্তান সিজারিয়ান। তবে প্রকাশ্যে জুলিয়াস সিজার সেই সন্তানকে কখনও স্বীকৃতি দেননি।
সিজারের সৌজন্যে রাজপাট ফিরে পেলেন ক্লিওপেট্রা। ভগ্নহৃদয়ে মারা গেলেন ত্রয়োদশ টলেমি। তাঁর আরেক ভাই চতুর্দশ টলেমিকে খুন করিয়েছিলেন ক্লিওপেট্রাই। আয়ত চোখের সুন্দরী সিংহাসনে বসার জন্য অন্য কোনও কিছুকেই রেয়াত করেননি। ৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিজারের মৃত্যু হয়। জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুর পরও থেমে থাকেনি রানী ক্লিওপেট্রার ক্ষমতার মোহ। সৌন্দর্য দিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রয়াসে আর সিংহাসনে নিজের আসন পাকাপোক্ত করার জন্য তিনি এবার কাজে লাগাতে চাইলেন আরেক রোমান শাসক অ্যান্টনিকে। অ্যান্টনি ছিলেন রাজা জুলিয়াস সিজারের পরবর্তী রোমান শাসক। জুলিয়াসের মৃত্যুর পর রোমান সাম্রাজ্য তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যেহেতু রোমান সাম্রাজ্যের ক্ষমতা চলে যায় তিনজন শক্তিশালী ব্যক্তির হাতে, যারা প্রত্যেকেই জুলিয়াস সিজারের জায়গা দখলের জন্য মরিয়া হয়ে পড়েন। এই তিনজনের মধ্যে একজন ছিলেন অক্টোভিয়ান, যিনি ছিলেন সিজারের ভাইপো, আরেকজন ছিলেন মার্ক অ্যান্টনি এবং মার্কাস লেপিডাস। যদিও মার্ক অ্যান্টনির ক্ষমতার মধ্যেই ছিলেন মিশরে, তবুও মিশর শাসনের জন্য ক্লিওপেট্রার সম্মতি দরকার ছিল তার। অ্যান্টনির ধারণা ছিল, যদি তিনি জোর করে মিশর দখল করতে চান, তাহলে ক্লিওপেট্রা হয়তো তার শত্রুদের সাহায্য করতে পারে। অপরদিকে মিশরের ধন-সম্পদেরও দরকার ছিল, সেই কারণে অ্যাণ্টনি ক্লিওপেট্রার সঙ্গে সমঝোতায় আসার একটা উপায় খুঁজছিলেন, কারণ সেই সময় মিশরের অর্থব্যবস্থা হয়ে পড়েছিল ভীষণই বেহাল। রাজদূতের মাধ্যমে অ্যাণ্টনি চিঠিও পাঠান ক্লিওপেট্রাকে, কিন্তু তিনি তার কোনো জবাবই দেননি। তবে ক্লিওপেট্রা অ্যান্টনিকে তার ভাসমান রাজপ্রাসাদে আমন্ত্রণ করেন একজন দূত মারফত। এর কারণ ছিল যে চতুর ক্লিওপেট্রা চাইছিল যে তাঁর আর অ্যাণ্টনির সাক্ষাৎ একটু মোহময় হয়ে উঠুক।
রাজা অ্যান্টনি ক্লিওপেট্রার সৌন্দর্যের কথা আগেই শুনেছিলেন লোকমুখে। কিন্তু তিনি যখন তার সামনে এসে দাঁড়ালেন, মনে হলো যেন স্বয়ং প্রেমের দেবী আফ্রোদিতে তার সামনে। সোনার পোশাকে মোড়া স্বপ্নপুরী থেকে আগত এক মানবী, যিনি তার মনের মধ্যে প্রেমের জোয়ার এনে দিলেন। ক্লিওপেট্রা ও রাজা অ্যান্টনি একে অপরকে প্রথম দেখাতেই একে অপরকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন। ক্লিওপেট্রার এই কৌশলটিও কাজে লেগেছিল, অ্যান্টনি তার প্রেমে পাগল হয়ে তার সঙ্গে আলেক্সান্দ্রিয়ায় বেশ অনেকটা সময় কাটালেন। এ সময় অ্যান্টনি তার শত্রুদের কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন। অ্যান্টনিও ক্লিওপেট্রার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। বলা যায়, নিজের মোহে তাঁকে আবিষ্ট করেছিলেন ক্লিওপেট্রাই। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই যমজ সন্তানের মা হন ক্লিওপেট্রা। বিনিময়ে দখল হওয়া সাইরেন ও সাইপ্রাস তাঁকে ফিরিয়ে দেন অ্যান্টনি। এমনকী, এশিয়া মাইনরের উপকূলীয় অঞ্চলের এক বিস্তৃত এলাকাও তিনি ‘উপহার’ দেন তাঁকে।
অক্টাভিয়ান এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জনতাকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত মিশরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন তিনি। অ্যান্টনি সেই যুদ্ধে পরাজিত হন। পরে অক্টাভিয়ান আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রবেশ করলে আত্মহত্যা করলেন তিনি।! ৩১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ইতিহাসখ্যাত সেই অ্যাক্টিয়ামের যুদ্ধ হয় রাজা অ্যান্টনি আর রোমান সামাজ্যের অন্যান্য শাসকের মধ্যে। এই যুদ্ধের মধ্যেই একটি গুজব ছড়ানো হয় যে, ক্লিওপেট্রা আত্মহত্যা করেছেন। প্রেয়সীর মৃত্যুর খবর শুনে রাজা অ্যান্টনি ভেঙে পড়েন, এবং তলোয়ারের আঘাতে নিজের জীবন শেষ করে দেন।প্লুটার্কের লেখা থেকে জানা যায়, যুদ্ধে হারের যন্ত্রণা কিংবা অক্টাভিয়ানের হাতে বন্দি হওয়ার ভয় নয়, ক্লিওপেট্রার আত্মহত্যার ভুয়ো খবর শুনেই তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।
তবে ক্লিওপেট্রার আবেদনের জাদুতে গলেননি অক্টাভিয়ান। তিনি যখন আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রবেশ করেন, নীলনয়না চেয়েছিলেন অ্যান্টনির মতো তাঁকেও নিজের জাদুতে মুগ্ধ করতে। কিন্তু ক্রমেই ক্লিওপেট্রার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় তাঁকে রোমে নিয়ে যাওয়া হবে ঠিকই। কিন্তু তাঁকে একটা ‘ওয়ার ট্রফি’র বেশি কিছু ভাবা হচ্ছে না, এটা সম্রাজ্ঞীর ‘ইগো’তে প্রবল আঘাত দিয়েছিল। তাই শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যা করেন সাপের ছোবল খেয়ে। কিন্তু তা নিয়ে রহস্য রয়েছে। বলা হয় একটি গোখরো সাপ ৫ থেকে ৮ ফুট লম্বা হয়। কিন্তু ওইরকম দীর্ঘ একটি সাপকে ফলের ঝুড়িতে লুকিয়ে রাখার তত্ত্ব ঠিক বিশ্বাসযোগ্য নয়। যদিও এ ব্যাপারে অনেকেই একমত, বিষপ্রয়োগেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। তবে নিশ্চিত করে কিছু বলা মুশকিল।
ইতিহাসের বুকে জ্বলজ্বল করছেন ক্লিওপেট্রা। কিন্তু হারিয়ে গিয়েছে তাঁর ও অ্যান্টনির কবর। তাঁদের দু’জনকে একসঙ্গেই কবরস্থ করা হয়েছিল। বলা হয় বটে আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ৫০ কিমি দূরের একটি স্থানেই নাকি রয়েছে সেই কবর। কিন্তু এই দাবিকে মান্যতা দেন না অধিকাংশ ঐতিহাসিক। ফলে সেই অর্থে ক্লিওপেট্রা আজ কেবল এক কুয়াশায় মাখা ইতিহাস।
তবে একটা বিষয়ে সকলেই নিঃসংশয় ,ব্যক্তিত্ব ও সৌন্দর্যের অভূতপূর্ব সঙ্গমে নির্মিত তাঁর উপস্থিতি এমনই ছিল, মুহূর্তে আশপাশের সকলকে কার্যত সম্মোহিত করে দিতে পারতেন।
মাত্র ৩৯ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে কখনো ছিলেন রাজকন্যা, কখনো বা পরাক্রমশালী রানী, আর কখনো তিনি ছিলেন প্রেয়সী। ক্লিওপেট্রা কে মনে করা হয় সম্মোহনী সৌন্দর্য্য আর সীমাহীন ক্ষমতার সত্বাধিকারী। রুপালি পর্দায় তাঁকে রুপসী হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও আধুনিক ইতিহাসবিদদের মতে, পরমাসুন্দরী হিসেবে তার খুব বেশি খ্যাতি ছিল না। তবে তাঁর তীক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা, মন্ত্রমুগ্ধকর ব্যক্তিত্ব, সহজাত রসবোধ,প্রচণ্ড উচ্চাভিলাষ ও তা বাস্তবায়নের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি সর্বকালের সেরা মহিলাদের কাতারে স্থান করে নিয়েছেন। ক্লিওপেট্রাকে ঘিরে ইতিহাসে বিতর্ক আর রহস্যের যেন শেষ নেই। যেমন রহস্যময তার জীবন ও রাজ্য শাসন, তেমনি রহস্যময় তার প্রেম। তাঁকে নিয়ে গল্প-কবিতা-উপন্যাসের পাশাপাশি নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রও।উইলিয়াম শেক্সপিয়র, জর্জ বার্নাড শ, জন ড্রাইডেন, প্লুটার্ক, হেনরি হ্যাগার্ড, ড্যানিয়েল– প্রত্যেকেই আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর চরিত্র। হ্যালিওয়েল তাকে ‘দ্য উইকেডেস্ট উইম্যান ইন দ্য হিস্ট্রি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রেম আর মৃত্যু এই নারীর জীবনে একাকার হয়ে গেছে। তিনি যেমন ভালোবাসার উদ্যাম হাওয়া বইয়ে দিতে পারতেন, তেমনি প্রয়োজনে মারাত্মক হিংস্র হতেও বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করতেন না।
দান্তের মতে, লালসার শাস্তি হিসেবে তিনি নরকের দ্বিতীয় স্তরে দাউ দাউ করে পুড়ছেন। কারো কারো দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন ‘সারপেন্ট অব দ্য নাইল’। অনেকে আবার তাঁর আবেদনময়ী দিকটিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ফারাও রাজবংশের সর্বশেষ রাণী ক্লিওপেট্রা শুধুমাত্র মিসরীয় ইতিহাসের এক বিস্ময়কর নামই নন, ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত নারীদের মধ্যেও তিনি একজন।

No comments

Powered by Blogger.